ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় অন্যতম আসামি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক ও ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল কাদিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মিরপুরের পীরেরবাগ ছাপড়া মসজিদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন পিবিআইয়ের প্রধান ডিআইজি বনোজ কুমার মজুমদার।
তিনি বলেন, ‘পীরেরবাগে বড় ভাই আব্দুর রহিমের বাসায় এজাহারভুক্ত আসামি হাফেজ আব্দুল কাদির আত্মগোপনে ছিলেন। কাদিরের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর পিবিআইয়ের একটি টিম তাকে ধরতে অভিযান চালায়।’
পিবিআই সূত্র জানায়, নুসরাতকে যৌন নিপীড়নের মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজদৌল্লার কারাগারে রয়েছেন। নুসরাত হত্যা মামলার আসামি নুর উদ্দিন, শাহাদাত, শামীমরা গত ৪ এপ্রিল কারাগারে অধ্যক্ষ সিরাজের সঙ্গে দেখা করেন। ওইদিন নুসরাতকে হত্যার জন্য অধ্যক্ষ সিরাজ তাদের নির্দেশ দেন।
অধ্যক্ষের নির্দেশ পাওয়ার পরদিন ৫ এপ্রিল মাদরাসার পশ্চিম হোস্টেলের একটি কক্ষে পরিকল্পনাকারীরা বৈঠক করেন। ওই কক্ষটিতে হাফেজ আব্দুল কাদির থাকতেন। নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে হাফেজ আবদুল কাদির প্রথম থেকেই জড়িত ছিলেন বলে দাবি পিবিআই’র।
বনোজ কুমার জানান, ৫ এপ্রিল মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয় নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে মারা হবে। এ জন্য তিনটি বোরখা ও কেরোসিন কিনতে কামরুন্নাহার মণিকে দায়িত্ব দেয়া হয়। মণি ৬ এপ্রিল সকালে এক লিটার কেরোসিন ও তিনটি বোরখা মাদরাসা প্রাঙ্গণস্থ সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে রাখেন। ওইদিন সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে যান নুসরাত জাহান রাফি। পরীক্ষা শুরুর আগে সকাল ৯টার দিকে নুসরাতকে কৌশলে ছাদে ডেকে নিয়ে যায় মুখোশধারীরা। এরপর তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হাত বেঁধে কেরোসিন ঢেলে গায়ে আগুন লাগানো হয়।
আগুনে দগ্ধ নুসরাত জাহান রাফি ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এসএম





