আদালতের আদেশ সত্ত্বেও এসএসসির ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধ না করার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হাইকোর্টে হাজির হয়েছেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। এ ছাড়া রাজধানীর ২৬টি স্কুলের প্রধানসহ কমিটির সভাপতিরাও এসেছেন।

মঙ্গলবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে তাদের এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার দিন ধার্য রয়েছে।

এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর আদালতের আদেশ না মানায় তাদের তলব করেন হাইকোর্টের এই বেঞ্চ।

২৬টি প্রতিষ্ঠান হলো ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মিরপুরের মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়, আলীমউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়, আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়, বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শহীদ স্মৃতি উচ্চবিদ্যালয় ও জান্নাত একাডেমি, সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ফায়দাবাদের দ্য চাইল্ড ল্যাব. স্কুল, উত্তরার মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, আজমপুরের হাজী মিল্লাত আলী আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়, লালবাগের রায়হান কলেজ, উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, আনন্দময়ী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, আহমেদ বাওয়ানী একাডেমি, ওয়েস্ট এন্ড হাইস্কুল, আরমানিটোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, কেমব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নিউমার্কেটের গভর্নমেন্ট ল্যাব. হাইস্কুল, ওয়াইডব্লিউসিএ স্কুল, হলিক্রস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

গত ১০ নভেম্বর দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ‘আট গুণ বাড়তি ফি আদায়’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরণ বাবদ অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধ করতে স্বপ্রণোদিত হয়ে আদেশ দেন হাইকোর্টের এই বেঞ্চ।

একই সঙ্গে এই অতিরিক্ত ফি আদায় করাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তার কারণ জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।

পাশাপাশি বাড়তি ফি আদায় বন্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বোর্ড চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষাসচিবসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

আদালতের আদেশ না মানায় আজ কর্তৃপক্ষকে তলব করলেন হাইকোর্ট।

প্রসঙ্গত, গত ১০ নভেম্বর যুগান্তরের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর দক্ষিন খান ফায়দাবাদের দ্য চাইল্ড ল্যাবরেটরি স্কুলের ছাত্রী মাহফুজার কাছে স্কুল কর্তৃপক্ষ ফরম পূরণ বাবদ চেয়েছে ১১ হাজার টাকা। কিন্তু তাদের অসচ্ছল পরিবারের পক্ষে এই অর্থসংস্থান সম্ভব নয়। তাই নালিশ জানাতে এসেছে বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে। ফরম পূরণে বোর্ড নির্ধারিত ফি সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ টাকা। কিন্তু এর বাইরেও বড় অঙ্কের ফি আদায় করায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ। অনেকে অভিযোগ করেছেন, চাহিদামতো অর্থ না দিতে চাইলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করছেন। তারা এর প্রতিকার চান।

ইআর