মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের পক্ষে চারজন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের অনুমতি দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আগামী ১৩ জুলাই রোববার থেকে সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।
একইসঙ্গে আগামী ১০ জুলাই বৃহস্পতিবারের মধ্যে চারজন সাফাই সাক্ষীর নাম, ঠিকানা, কোন সাক্ষী কোন অভিযোগে ও কোন পয়েন্টে সাক্ষ্য দেবেন এ বিষয়ে বিস্তারিত (পার্টিকুলার্স) জমা দিতে আসামিপক্ষকে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এসব আদেশ দেন।
রোববার আজহারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হলে তার পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিতে ১৫ জন সাক্ষীর একটি তালিকা জমা দেন আসামিপক্ষ। এ তালিকা বাতিলের আবেদন করেন প্রসিকিউশন। আজ এ বিষয়ে শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম। আজহারের পক্ষে শুনানি করেন আব্দুস সোবহান তরফদার।
সাফাই সাক্ষীর তালিকা বাতিলে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল জানতে চান,বিচারিক কার্যক্রমের কোন সময়টাতে আসামিপক্ষ তাদের সাক্ষীদের তালিকা জমা দবেন?

প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষীদের জমা দেওয়া তালিকা আইন সম্মতভাবে হয়নি বলে তা বাতিলের দাবি জানান।

উভয়পক্ষের শুনানির পর আজহারের আইনজীবী আব্দুস সুবহান তরফদারকে ট্রাইব্যুনাল বলেন, আপনি যেভাবে সাক্ষীর তালিকা দিয়েছেন, সেটা প্রথমেই বাতিল করে দেওয়া উচিৎ ছিল। তারপরও আমারা চারজনকে সাক্ষ্য দেওয়ার অনুমতি দিলাম।
গত বছরের ৫ ডিসেম্বর আজহারের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর একেএম সাইফুল ইসলাম।

এর আগে ১২ নভেম্বর এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।

এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, নির্যাতন, আটক, অপহরণ, গুরুতর জখম ও অগ্নিসংযোগের ৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটিতেও(উর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) অভিযুক্ত হয়েছেন তিনি।
২৫ জুলাই এটিএম আজহারুলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। ১৮ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি দাখিল করেন প্রসিকিউটর একেএম সাইফুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর নুরজাহান বেগম মুক্তা। ৪টি ভলিউমে ৩শ’ পৃষ্ঠায় দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগে আজহারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে ৯ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের ৬টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর আদেশে ২০১২ সালের ২২ আগস্ট ঢাকার মগবাজারের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় এটিএম আজহারুল ইসলামকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

ঢাকা,কেএ ৭ জুলাই(টাইমনিউজবিডি.কম)