দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ডাকে হাজির হননি ওশান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খন্দকার আলী আজম বাবলা।
পিএইচডি ডিগ্রি ও মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির মামলার তদন্তের স্বার্থে ওশান গ্রুপের এমডিকে রোববার তলব করেছিল দুদক। কিন্তু দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হননি তিনি।
গত ১১ আগস্ট তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হলেও তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দুদকের কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার জিজ্ঞাসাবাদের দিন নির্ধারিত ছিল।
দুদক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এ বিষয়ে দুদক সূত্রে জানা যায়, সত্য বেরিয়ে আসার ভয়ে দুদকে হাজির হননি ভুয়া সনদ মামলার আসামি বাবলা। তবে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে পুররায় তলব করে নোটিস দেওয়া হবে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ৩ জানুয়ারি ‘দৈনিক স্বাধীনমত’ পত্রিকা নিজ নামে (সম্পাদক ও প্রকাশক) প্রকাশের জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন খন্দকার আলী আজম বাবলা।
ওই দিনই তিনি পত্রিকাটি নিজ নামে প্রকাশের অনুমতি পান। তবে জেলা প্রশাসনের কাছে করা ওই আবেদনের সঙ্গে তিনি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও পিএইচডি ডিগ্রির জাল সনদ দাখিল করেন।
কমিশনের অনুসন্ধানকালে খন্দকার আলী আজমের লিখিত বক্তব্য সূত্রে জানা যায়, তিনি ১৯৭৪ সালে চুয়াডাঙ্গার ভি জে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়েন।
১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৭৭ সালের মধ্যে খন্দকার আলী আজম বাবলা নামের কেউ এসএসসি পাস করেছেন কিনা জানতে চাইলে ওই বিদ্যালয় থেকে জানানো হয়, এ নামে কেউ পাস করেননি।
একইভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ থেকে খন্দকার আলী আজম বাবলা নামের কোনো শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেনি মর্মে দুদকে লিখিতভাবে জানানো হয়।
‘দৈনিক স্বাধীনমত’ পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশকের ঘোষণাপত্র পাওয়ার আবেদনের সঙ্গে এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতকোত্তর পাশের সার্টিফিকেট দাখিল না করে তিনি ইউএসএ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ডিগ্রির ভুয়া সনদ ও মুক্তিযোদ্ধার জাল সনদ ব্যবহার করেন।
কমিশনের অনুসন্ধানে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৫ সালের ৮ জুলাই রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা (মামলা নম্বর ৮) দায়ের করা হয়।
দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক সরদার মঞ্জুর আহম্মদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
এমকে





