নীলক্ষেতে ছাদের উপর ছাদ দেখিয়ে ১১২টি দোকান  বরাদ্দ  দিয়ে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে  ঢাকা দক্ষিনের সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক প্রশাসক  মো. খলিলুর রহমান, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতান উল ইসলাম ও কানুনগো মো. আলীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে  সংশ্লিষ্ট থানায় মামলার দিয়েছে দুদক।

অভিযুক্ত বাকী ৬ জন হলেন, ডিএসসিসির সাবেক  প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেন, সাবেক সম্পত্তি কর্মকর্তা  দিদারুল আলম, সার্ভেয়ার মুরাদ হোসেন, সার্ভেয়ার সৈয়দ রুমান এবং নীলক্ষেতের  এ  অবৈধভাবে নির্মিত  মার্কেটের দোকার-মালিক সমিতির সভাপতি  একেএম  শামসুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন।

জানা যায়, আজ রোববার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিয়মিত সভায় উক্ত ৯ আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন দেয়া হয়।আর এ অনুমোদনের ফলে আগামীকাল সোমবার দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তা উপ পরিচালক মাহবুব আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করার সম্ভাবনা রয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে  বলা হয়,অভিযুক্ত  কর্মকর্তারা নিলক্ষেত  এলাকায় ফাঁকা জায়গায় ছাদের উপর ছাদে অস্থায়ীভাবে ১৫ টাকা বর্গফুট ভাড়া  নির্ধারণ করে ১১২টি দোকান  ব্যবসায়িদের বরাদ্দ  দেয়।  আর বরাদ্দের শর্তে বলা ছিল ব্যবসায়িরা  নিজ খরচে ছাদের উপর ছাদ অর্থাৎ ৪ তলা পাকা মার্কেট  নির্মাণের জন্য বরাদ্দ  দেয়। কিন্তু অস্থায়ী বরাদ্দে কখনো স্থায়ী পাকা দোকান বানানোর বিধান নেই। তবে এ বেআইনী  বরাদ্দের মাধ্যমে এ চক্রটি প্রয়া ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।

এদিকে ডিএসসিসির বিভাগীয় তদন্তে নীলক্ষেতে এ অবৈধ মার্কেট বরাদ্দের ঘটনায় সাবেক প্রধান নির্বাহী তর্মকর্তা সুলতান উল ইসলামকে বাদ দিয়ে বাকি ৮ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি  আইনে  ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু ডিএসসিসির বর্তমান প্রশাসন এ বিষয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ না নিয়ে দুদকের  দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। 

জানা যায়, ২০১৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আবদুল্লাহ আল হারুনকে আহবায়ক এবং প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. মফিজুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যের একটি কমিটি এ জালিয়াতির  বিষয়টি তদন্ত  করেন। এ কমিটির অপর সদস্যরা হলেন, বাজার সার্কেলের  নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ, উপ প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলী সরদার, সহকারি আইন কর্মকর্তা এসএমকরীম খান।

এ কমিটির কর্মকর্তারা ২০১৩ সালে ৩ এপ্রিল  প্রশাসকের দফতরে তদন্ত  প্রতিবেদন দাখিল করেন। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা,সচিব এবং দদেকের চেয়ারম্যানের দফতরসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ৮ জালিয়াতির  বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ফৌজদারি এবং  বিভাগীয় মামলার সুপারিশ রয়েছে। কিন্তু গত এক বছরে ডিএসসিসিও  রহস্য জনক কারণে অভিযক্তদের বিরুদ্ধে  ফৌজদারি এবং বিভাগীয় মামলা দায়ের করেনি।

ডিসিসিসির  তদন্ত প্রতিবেদনে  বলা হয়েছে, জালিয়াতির মাধ্যমে  নীলক্ষেত লেপতোষকের মাকের্টের ছাদ এবং সংলগ্ন  প্রায় সোয়া এক বিঘা জমিতে ৪ তলা পর্যন্ত ছাদের উপর ছাদ নির্মাণ করে নেয়ার জন্য ব্যবসায়িদের অন্থায়ি ১১২টি দোকন বরাদ্দ দেয়া হয়। আর এ ১১২ টি দোকানের আবেদনকারীদের নামের তালিকায় মাত্র ১০/১৫ জনই স্বাক্ষর করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়,২০১২ সালে ১ এপ্রিল সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের সুপারিশ সম্বলিত একটি আবেদন পত্রের উপর ভিত্তি করে ১৪ এপ্রিল কানুনগো মো.আলী  ১১২টি দোকান বরাদ্দের পক্ষে প্রশাসকের নির্দেশ রয়েছে বলে নথি সম্পত্তি বিভাগে উপস্থাপন করেন।  ওই নথিতে সার্ভেয়ার সৈয়দ রুমান, সার্ভেয়ার মো. মুরদ হোসেন ১৯ এপ্রিল দোকান বরাদ্দের প্রস্তাবের পক্ষে মতামত দেন।

২৩ এপ্রিল সম্পত্তি কর্মকর্তা দিদারুল আলম এবং ৩০ এপ্রিল প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন বরাদ্দের পক্ষে নীতিগত সিদ্ধান্তের  প্রয়োজন মন্তব্য করেন। পরে তৎকালীন প্রশাসক  মা. খলিলুর রহমান ২০১২ সালে ১০ মে লিখিতভাবে ১১২টি দোকান বরাদ্দের নির্দেশ দেন।

তার নিদের্শে ১১২টি দোকানের মধ্যে প্রথম তলায় দোকান (নং-৫০/১-৮৪) ৩৮টি, প্রথম তলার ছাদে দোকান (নং ১-৩৭) ৩৭টি, দ্বিতীয় তলার ছাদে দোকান (নং-১-৩৭) ৩৭টি রয়েছে।  দোকান বরাদ্দের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট ১৬ কর্মকর্তাকে প্রদানের কথা থাকলেও বাস্তবে কাউকে অনুলিপি দেয়া হয়নি। দুদকের অনুসন্ধানেও্  সেববিষয়গুলো বেরিয়ে   এসেছে।  তবে মামলা দায়েরের  পর তদন্তে আরো অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে  আসবে। একই সঙ্গে আসামির সংখ্যাও বাড়তে পারে বলে  জানান দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 একে ,