ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে অগ্রণী ব্যাংক থেকে ভোজ্য তেল শোধনকারী প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স লিমিটেডের মাধ্যমে ১৫৫ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ব্যাংকটির ডিজিএমসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
বুধবার দুদক উপ-পরিচালক মো. সামছুল আলম বাদী হয়ে চট্টগ্রামের ডাবলমুরিং থানায় মামলাটি দায়ের করেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, এই ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা তোয়াক্কা না করে জাল কাগজপত্রে ১৫৫ কোটি ৩৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ঋণ প্রদানের সুপারিশ করে। পরে ঋণ মঞ্জুর হলে মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স লিমিটেড ঋণের টাকা নিয়ে পরিশোধ না করে আত্মসাত্ করেছে বলে দুদক প্রাথমিক যাচাই বাছাইতে প্রমাণ পেয়েছে। এ অভিযোগে কমিশনের অনুমোদনক্রমে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ মামলার আসামিরা হলেন— ভোজ্য তেল শোধনকারী প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. নূরুল আবছার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সামশুল আলম, পরিচালক ও এমডির স্ত্রী কামরুন্নাহার বেগম, পরিচালক মো. নূরুল আলম, জয়নাব বেগম, তাহমিনা বেগম।
অন্যদিকে ব্যাংকের আসামিরা হলেন অগ্রণী ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. নূরুল আমিন, সাবেক সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. জোনায়েদ বোগদাদী, সাবেক সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার উদয় কুমার বিশ্বাস, বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের প্রিন্সিপাল অফিসার মো. শাহজাদুল আলম ও প্রিন্সিপাল অফিসার ইয়াসিন ফারুকি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণা ও দুর্নীতি মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা ভঙ্গ করে এবং বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রতিষ্ঠানটির ঋণ নেওয়ার তথ্য গোপন করে অগ্রণী ব্যাংকের সিআইবি রির্পোটের সঙ্গে পুরাতন ঋণ প্রস্তাবসমূহ অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে দাখিল করে।
এর পর অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে ঋণ অনুমোদন করিয়ে নেয়। ঋণ অনুমোদনের সময় শাখা ব্যবস্থাপক ও শাখার কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও ব্যাংক বিধি অনুযায়ী উল্লিখিত ব্যাংক কর্মকর্তারা ঋণ আদায় না করে মোহাম্মদ ইলিয়াছ ব্রাদার্স লিমিটেডের পরিচালকরা ব্যাংকের অর্থায়নে ইন্দোনেশিয়া হতে ক্রুডপাম অলিন আমদানি করে আমদানিকৃত পণ্য বিক্রয় করে দেয়।
জেড





