অবশেষে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার এ বিষয়ে কমিশন উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিনকে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছ্।
দুদক প্রায় ১০ মাস যাবৎ এ অভিযোগটি যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।
জানা যায়, ২০০৮ সালের হলফনামায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টুকুর দুই ছেলে ও স্ত্রীর কোনো সম্পদ উল্লেখ ছিল না। তবে গত পাঁচ বছর পর তারা কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। ২০১৩ সালে নির্বাচন কমিশনে দেয়া হলফনামায় সব সম্পদের তথ্য গোপন করা হয়েছে।
গত পাঁচ বছরে টুকুর অবৈধ ১৫ কোটি ৫ লাখ ৬০ হাজার ৫১১ টাকা এবং তার বড় ছেলে ভিওআইপি ব্যবসায় কর ফাঁকি দিয়ে ১৪৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা অর্জন করেছেন। ২০০৮ সালে টুকুর মোট ১৩ লাখ ৭৮ হাজার টাকার সম্পদ ছিল। ৫ বছর পর ২০১৩ সালে নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত হলফনামা অনুসারে, টুকুর ২ কোটি ৪০ লাখ ৪৯ হাজার ৫১০ টাকার সম্পদ হয়েছে।
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টুকুর দেয়া হলফনামা অনুযায়ী, ২০০৮ সালে তার স্ত্রী বেগম লুৎফুন নেছার সম্পদ ছিল ৬১ লাখ ৭২ হাজার টাকার। ৫ বছর পর ২০১৩ সালে তার স্ত্রীর সম্পদ ১ কোটি ৯৫ লাখ ৬৫ হাজার ৮০ টাকার সম্পদ হয়েছে।
দুদকে জমাকৃত অভিযোগে বলা হয়েছে, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টুকুর ছোট ছেলে নাসিফ সামস্ আয়কর বিবরণীতে মোট ৮২ লাখ ৭৫ হাজার টাকার সম্পদের হিসাব দিয়েছে। তবে টুকুর দেয়া হলফনামায় তার ছোট ছেলের নামে কোনো সম্পদের হিসাব উল্লেখ করেননি। টুকুর বড় ছেলের স্ত্রী (পুত্রবধু) মুসলিমা খাতুন আয়কর বিবরণীতে ১ কোটি ১৭ লাখ ৯৩ হাজার ৩৩০ টাকা দেখিয়েছেন। কিন্তু টুকুর হলফনামায় এ সম্পদের কথাও উল্লেখ করেননি।
২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত হলফনামা অনুসারে, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. শামসুল হক টুকু আইন পেশা থেকে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা আয় করেছেন। ওই সময় তার নগদ ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। ব্যাংকে জমা অর্থের পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার টাকা। এ ছাড়া সোনা ১০ হাজার টাকা, ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী ৪০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ৫০ হাজার টাকা এবং ৯ লাখ টাকার অকৃষি জমি ছিল। অর্থাৎ ২০০৮ সালে টুকুর মোট ১৩ লাখ ৭৮ হাজার টাকার সম্পদ ছিল।
টুকুর স্ত্রী বেগম লুৎফুন নেছার ২০০৮ সালে মোট ৬১ লাখ ৭২ হাজার টাকার সম্পদ ছিল। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদ হিসেবে ১টি ফ্ল্যাট যার মূল্য ২০ লাখ টাকা, নগদ ৮ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমাকৃত ৪১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ১৪ হাজার টাকার সোনা রয়েছে। অর্থাৎ ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাখিলকৃত হলফনামায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের মোট ৭৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার সম্পদের মালিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১৩ সালে নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত হলফনামা অনুসারে, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টুকু মোট ২ কোটি ৪০ লাখ ৪৯ হাজার ৫১০ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এর মধ্যে কৃষি খাতে ৮০ হাজার টাকা, বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট- দোকান ও অন্যান্য ভাড়া ২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা, শেয়ার সঞ্চয়পত্র ব্যাংক আমানত ৫ লাখ ৩৯ হাজার ১২১ টাকা, নগদ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ডিপিএস ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৬০ টাকা, এফডিআর ৪৫ লাখ ৪১ হাজার ৫৪৬ টাকা, মোটরগাড়ি ৭১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৫ টাকা, ১০ ভরি সোনা, ১০ হাজার টাকা, ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী ৪০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ৫০ হাজার টাকা, পিস্তল ১টি ৮৬ হাজার ৯০০ টাকা, পাঁচ কাঠা অকৃষি জমি ৪৯ লাখ ৭৭ হাজার ২৯৮ টাকা, পাবনা সদরে ১টি দালান ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা, দানসূত্রে প্রাপ্ত বসতভিটা ২৫ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে।
জানা যায়, ২০১৩ সালের হলফনামায় প্রদর্শিত পাবনা সদরে বিদ্যমান বাড়িটি দু’তলা থেকে ৫ তলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ৫তলা ভবনটির প্রকৃত মূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। যার দাম তিনি হলফনামায় ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা উল্লেখ করেছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ১ কোটি ৩৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার সম্পদ গোপন করেছেন।
এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন বিলাসবহুল দ্বিতল প্রাসাদ নির্মাণ করেছেন। এ বাড়িটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এ ক্ষেত্রে তিনি ১ কোটি ৭১ লাখ ২৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।
জানা যায়, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ২০০৮ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সময়ে মোট ১৫ কোটি ৫ লাখ ৬০ হাজার ৫১১ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এ ছাড়া তার পরিবারের সদস্যরা নামে- বেনামে পঞ্চগড় জেলায় ৩৬ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন। ডিএসই, ডিএসসি ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক অবৈধভাবে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন।
একে/কেএইচ





