সিরাজগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ২২৫ মেগাওয়াটে উন্নীতকরণের নামে বিনা টেন্ডারে ডিপিএম'র মাধ্যমে কার্যাদেশ জারি করে প্রায় ৫৫ কোটি টাকার হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে নেমেছে দুদকে।
জানা যায়, একনেকে টেন্ডারের সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও বিনা টেন্ডারে পছন্দের কোম্পানীকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে ভুল তথ্য প্রদান ও বিভ্রান্ত করে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানিকে কার্যাদেশ দেয়ার বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করছে দুদক।
দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে, ২০১১ সালের ৫ জুলাই প্রকল্প যাচাই সভায় সিরাজগঞ্জ ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ২২৫ মেগাওয়াটে উন্নীতকরণ প্রকল্পের ওপর সংশ্লিষ্টরা মতামত দেন। প্রকল্পের জন্য কোন্ ধরণের প্রক্রিয়া (আইসিবি নাকি ডিপিএম) সুবিধাজনক হবে সে বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি অর্থায়নে সিরাজগঞ্জ সিম্পল সাইকেল পাওয়ার জেনারেশন প্রকল্পের জন্য ফুয়েল পাইপলাইন সিস্টেমটি টেন্ডার ছাড়া কার্যাদেশ দেন। পরে একই প্রকল্পের জন্য প্রায় ৬শ’কোটি টাকায় ৭৫ মেগাওয়াট কনভার্সন প্রকল্পও বিনা টেন্ডারে সিএমসি-চায়নাকে কার্যাদেশ দেন।
অথচ এডিবির অর্থায়নে খুলনায় একই ক্ষমতাসম্পন্ন (৭৫ মেগাওয়াট) কম্বাইন্ড সাইকেল প্রকল্পের কাজ ৫৫ কোটি টাকা কম মূল্যে সাংহাই ইলেকট্রিক গ্রুপ কোম্পানিকে কার্যাদেশ দেন। সিরাজগঞ্জ প্রকল্পে সরকার দর কষাকষিরই কোনো সুযোগ পায়নি। সিএমসি চায়নাকে কার্যাদেশ প্রদান করতেই এ কূটকৌশলের আশ্রয় নেন তিনি। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রীকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবকে দিয়ে তিনি বিনা টেন্ডারে কার্যাদেশ বাগিয়ে নেন। এর ফলে সাশ্রয়ী দর পাওয়াতো দূরের কথা প্রাথমিক হিসেবেই ৫৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়।
সূত্র মতে, এডিবির অর্থায়নে খুলনা পাওয়ার প্লান্ট ২২৫ মেগাওয়াটে উন্নীতকরণ প্রকল্পে একাধিকবার ক্লারিফিকেশন চেয়েছিলেন তিনি। জাইকার অর্থায়নে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ৩৬০ মেগাওয়াট প্রকল্পের টেন্ডারে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত ১০বার ক্লারিফিকেশন চেয়েছেন খোরশেদ। আর সিরাজগঞ্জে একবারও ক্লারিফিকেশন চাওয়া হয়নি।
২০১২ সালের ১০ এপ্রিল একনেক বৈঠকে প্রকল্প অনুমোদন লাভ করে। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৬৭৮ কোটি টাকার বেশি বলে জানা যায়।
এদিকে সভায় নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির এমডি এ এম খোরশেদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, ডিপিএম’র (ডাইরেক্ট পারচেজিং মেথড) মাধ্যমে প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা যাবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, কাউকে এককভাবে কার্যাদেশ প্রদানের এখতিয়ার আমার নেই। একনেকের সিদ্ধান্তেই সব হয়েছে। দুদক তদন্ত করছে করুক। সত্য বেরিয়ে আসুক। আমার বিরুদ্ধে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সঠিক নয়।
এ এম খোরশেদ আলমের সম্পদের খতিয়ান: রাজধানীর মিরপর ডিওএইচএস’র ৩৫ নম্বর রোডে তার রয়েছে ৩টি প্লট। ৪৭,৪৮ ও ৪৯ নম্বর হোল্ডিং নম্বরের এ প্লাটগুলোর ওপর নির্মাণ করেছেন বহুতল ভবন। ভবনটির একটি ফ্ল্যাটে তিনি বসবাস করছেন। ভাড়া দিয়েছেন বাকিগুলো। রাজধানীর বিভিন্ন লোকেশনে রয়েছে ৫০টির মতো ফ্ল্যাট। ৩০টি প্লট। বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে রয়েছে কয়েক শত কোটি টাকার নগদ অর্থ,এফডিআর এবং সঞ্চয়পত্র। পুঁজিবাজারেও তার ২০ কোটি টাকার বেশি লগ্নি রয়েছে । চায়না,মালয়েশিয়ায় রয়েছে ব্যবসা। পাচারকৃত ৬০ কোটি টাকার বেশি রেখেছেন থাইল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংক ও সুইসব্যাংকে। খোরশেদ আলম তার স্ত্রী, শ্যালক, শ্যালিকা ও আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে এ অর্থ পাচার করেন বলে জানা গেছে।
দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) ড.নাসির উদ্দীন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন,৫৫ কোটি টাকার দুর্নীতি এবং এ এম খোরশেদ আলমের বিপুল অর্থ-বিত্তের অনুসন্ধানে একজন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন।
ঢাকা, একে, ১ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ





