কোকেন আমাদানি ও রপ্তানীর সঙ্গে চারটি দেশ জড়িত বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এমনটাই জানিয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তথ্য অপরাধ বিভাগের মহাপরিচালক ড. মঈনুল খান। ওই চার দেশ হলো- বাংলাদেশ, ভারত, ইংল্যান্ড এবং বলিভিয়া। বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল।

কোকেন আমাদানি ও রপ্তানীর সাথে জড়িত দু’জনকে গ্রেফতারের ব্যাপারে মঙ্গলবার কাকরাইলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তথ্য অপরাধ বিভাগের কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, আতিকুর রহমান খান এবং মন্ডল গ্রুপের মোস্তফা কামাল। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে মোস্তফা কামালকে উত্তরা মন্ডল গ্রুপের অফিস থেকে এবং আতিকুররক গুলশান এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

মঈনুল খান বলেন, সান ফ্লাওয়ার তেলের ড্রামে কোকেন আমদানি মামলার তদন্ত কাজে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, কয়েকমাস আগে কানাডিয়ান কাস্টমস ৩১০ কেজি কোকেন জব্দ করে। কোকেন অত্যন্ত ব্যয়বহুল তাই এটি বাংলাদেশের জন্য আসেনি। তবে অন্য দেশে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল।

মহাপরিচালক বলেন, এই চালানে যিনি প্রকৃতপক্ষে দোষি তার মোবাইল ঘটনার পর থেকেই বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে উক্ত দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা মূলত চালানটি পুনরায় রপ্তানী করার জন্য শিপিং এজেন্টসহ বিভিন্ন এজেন্টের সাথে যোগাযোগ করে আসছিলো।

জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কে মহাপরিচালক বলেন, ইংল্যান্ডে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত এক ব্যক্তির নাম পাওয়া গিয়েছে। যার গ্রাম মৌলভীবাজার জেলায়। তার নাম মো. বকুল। এই বকুলই মূলত চালানটির মূল হোতা এবং সে মোস্তফা কামালের আত্মীয় হওয়ায় তাদেরকে এই দেশে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে যুক্ত করে।

ড. মঈনুল বলেন, বাংলাদেশে এই চালানের প্রয়োজনীয় সুবিধা না পাওয়ায় তারা পুনরায় রপ্তানী করার জন্য ভারতে রাজুর সাথে তারা যোগাযোগ করে। কিন্তু গত শনিবার আমরা তাদের সকল কর্মকাণ্ড বিনষ্ট করে দেই। যদিও কোকেনের প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিলো। কিন্তু আমরা ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে কোকেনের যথেষ্ঠ প্রমাণ পেয়েছি।

চট্টগ্রামে জব্দ করা ওই কোকেনের পরিমাণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ল্যাবে যতেষ্ট যন্ত্রপাতি থাকা সত্বেও কোকেনের পরিমাণ সম্পার্কে তারা আমাদের কিছু বলতে পারেনি। কারণ এটি পরিমাপ করার জন্য ৫০ মিলিগ্রাম ওজনের আরো কিছু কোকেন প্রয়োজন। যেটা আমাদের দেশে সহজ লভ্য নয়। তাই কন্টেইনারে কোকেনের পরিমাণ সম্পর্কে এই মুহূর্তে আমরা কিছু বলতে পারছি না।

মঈনুল খান বলেন, আমরা ইউনাইটেড ন্যাশনস অফিস অব ড্রাগ এন্ড ক্রাইমের (ইউএনওডিসি) সাথে যোগাযোগ করেছি। যারা এই কোকেন সম্পর্কে পারদর্শি। বাংলাদেশের সাথে তাদের একটি এমওইউ রয়েছে। এই এমওউর আন্ডারে আমরা চিঠি পাঠিয়েছি। আমরা আশা করছি তাদের কাছ থেকে রিপোর্ট পাওয়ার পর কোকেনের পরিমাণ সম্পার্কে আপনাদের জানাতে সক্ষম হবো। এবং তদন্ত কাজের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রোয়জনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবো।

খান জাহান আলী লিমিটেডের সাথে গ্রেফতারকৃতদের কোন যোগাযোগ রয়েছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, খান জাহান আলী লিমিটেডের সাথে এদের কোন যোগাযোগ নেই। এরা ইংল্যান্ডের বকুলের সাথে যোগাযোগ করে ভারতের রাজুর মাধ্যমে পুনরায় রপ্তানি করার চেষ্টা করছিল। এই বকুল এবং রাজুই হচ্ছে এই চালানের মূল হোতা।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই ধরনের বড় কোন চালান উদ্ধার এটিই প্রথম। তাই বিভিন্ন মহল থেকে আমাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ আসছে। তবে সেটিকে রাষ্ট্রের স্বার্থে আমরা কোন রকম আমলে নিচ্ছি না।

এই দু'জনকে গ্রেফতারের মাধ্যমে এবং তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তদন্ত কাজে আরো অনেক দূর আগানো যাবে বলেও তিনি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, ভোজ্যতেলের ঘোষণা দিয়ে দেড় মাস আগে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা একটি কন্টেইনারের নমুনা পরীক্ষা করে গত শনিবার তাতে তরল কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়ার কথা জানায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের প্রতিষ্ঠান খানজাহান আলী লিমিটেড বলিভিয়া থেকে ওই তেল আমদানি করে। কনটেইনারে থাকা ১০৭টি ড্রামের মধ্যে একটিতে পাওয়া যায় তেলে মেশানো তরল কোকেন।

 

এমআর/ এআর