আজ ভয়াল ১৭ আগস্ট। দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ১০ বছরপূর্তি। দীর্ঘ ১০ বছরেও শেষ হয়নি দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলার সম্পূর্ণ বিচারকাজ। ২০০৫ সালের এই দিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে মুন্সীগঞ্জ ছাড়া দেশের ৬৩ জেলার সাড়ে ৪শ' স্থানে প্রায় ৫০০ বোমার বিম্ফোরণ ঘটায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)।

একযোগে কেঁপে ওঠে সারাদেশ। নিজেদের শক্তির জানান দেয়া ওই হামলায় দু'জন নিহত ও শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। সেই সিরিজ বোমা হামলার মাধ্যমেই তাদের জঙ্গি কার্যক্রমের প্রকাশ ঘটায় সংগঠনটি।

সিরিজ বোমা হামলার ওই দিনে শুধু রাজধানীতেই ৩৩টি স্পটে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। সারাদেশের মতো সিরিজ বোমা হামলার স্থান হিসেবে হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট, জেলা আদালত, বিমানবন্দর, বাংলাদেশে থাকা মার্কিন দূতাবাস, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, প্রেসক্লাব ও সরকারি-আধা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বেছে নেয়া হয়।

হামলার স্থানগুলোতে জেএমবির লিফলেট পাওয়া যায়। লিফলেটগুলোতে বাংলাদেশে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করার বিষয়ে বক্তব্য লেখা ছিল। দেশের কর্মরত বিচারকদের প্রতি একটি বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়, দ্রুত এ দেশে ইসলামী হুকুমত কায়েম করতে হবে। প্রচলিত বিচার ব্যবস্থা আমরা মানি না।

রাজধানীর ৩৩টি স্পটে বোমা হামলার ঘটনায় বিভিন্ন থানায় ১৮টি মামলা হয়। এখনো ঢাকার আটটি নিম্ন আদালতে ১৬টি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে পাঁচটি মামলার কার্যক্রম অনেকটা স্থবির। ঢাকার আদালতে বিচারাধীন মামলাগুলোর ২৫৬ জন সাধারণ সাক্ষীর বিরুদ্ধে আদালত জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রেখেছেন।

আর ১৫০ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেও জারি রয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। এসব মামলায় বারবার সময় আবেদন করে অনেকটা দায়সারা গোছের দায়িত্ব পালন করেছেন সরকারি আইন কর্মকর্তারা।

সিরিজ বোমা হামলার পাঁচ বছর পর ২০১০ সালে জেএমবির সব কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। কিন্তু নিষিদ্ধ ঘোষিত সেই জঙ্গি সংগঠনটি এখনো গোপনে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জঙ্গি বিরোধী সাঁড়াশি অভিযানের পরও থেমে নেই জেএমবির কার্যক্রম। গত ৫ বছরে জেএমবির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও তাদের নির্মূল করা যায়নি। আত্মগোপনে থেকে জেএমবি তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। নামে-বেনামে, ছদ্মনামে জঙ্গিরা এখনও তৎপরতা চালাচ্ছে।

জেএমবির বর্তমান আমির মাওলানা সাইদুর রহমান কারাগারে বসে তার ছেলে ফাহিম ওরফে পাখির মাধ্যমে এখনো কলকাঠি নাড়ছে। তাছাড়া পলাতক এবং জামিনে মুক্ত জঙ্গিদের নিয়ে আত্মগোপনে থাকা মধ্যস্তরের নেতারা এখনো গোপনে দাওয়াতি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

জেএমবির ওই ঘটনায় দেশের ৬৩ জেলায় ১৬১টি মামলা হয়। সর্বশেষ গাজীপুরের একটি মামলার রায় আসে গত ১০ আগস্ট।

তবে জঙ্গিদের শক্তির জানান দেয়া ওই সিরিজ বোমা হামলার ৫৩টি মামলা এখনো বিচারাধীন। ওই মামলার পলাতক ও জামিনে মুক্তি পাওয়া জঙ্গিদের অনেকে গোপনে জঙ্গি তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। জেলে বন্দি জঙ্গিরা কারাগারে বসেই তাদের কলকাঠি নাড়ছে।

সর্বশেষ গত ২৮ জুলাই রাজধানী থেকে জেএমবির ভারপ্রাপ্ত আমির ফাহিম ওরফে পাখিসহ আট জঙ্গিকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওই জঙ্গিরা তাদের কারাবন্দি শীর্ষ নেতাদের ছিনিয়ে নেয়া ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করেছিল বলে জানায় ডিবি।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দাবি, দেশের জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ত্রিশালে পুলিশ ভ্যান থেকে তিন জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেয়া ছাড়া গত দশ বছরে বড় ধরনের আর কোনো সহিংসতা ঘটেনি। বড় ধরনের নাশকতা করার শক্তি তাদের আর নেই।

পুলিশ ও আদালত সূত্র মতে, ২০০৫ সালে হামলার পর দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ১৬১টি মামলা হয়। এর মধ্যে ১০৮টি মামলার বিচার শেষ হয়ে গেছে। এসব মামলায় ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১১৮ জনের যাবজ্জীবন ও ১১৮ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছে।

তবে এখনো বিচারাধীন রয়েছে ৫৩টি মামলা। এসব মামলার সাক্ষীদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও পুলিশ তাদের হাজির করছে না। এমনকি পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির হচ্ছেন না।

২০০৫ সালে দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা মামলার সর্বশেষ যে রায়টি আসে সেটি হলো গত ১০ আগস্ট ঢাকার একটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল থেকে। এদিন গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের ১৭ সদস্যকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়।

এ ছাড়া অপরাধ প্রমাণ না হওয়ায় মামলার চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক আবদুল রহমান সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নিজামউদ্দিন, আরিফুর রহমান, রোকোনু্জ্জামান, জহিরুল ইসলাম, আসাদ ওরফে জাহাঙ্গীর, ওমর ফারুক, কাওসার সুমন, কাজীমুদ্দিন, আদম, দুরুল হুদা, মামুনুর রশীদ, রাসেল, আব্দুল কাফি, এমএ সিদ্দিক, রানা, মাসুম ওরফে আব্দুর রব ও রায়হান ওরফে ওবায়েদ। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন—হাসান, মাহবুবুর রহমান, নুরুল ইসলাম ও তৈয়বুর রহমান।

এদের মধ্যে ১১ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে ওইদিন সাজা পাওয়া আসামি রাসেল, আবদুল কাফি, এমএ সিদ্দিক বাবলু, রানা ওরফে আবদুস সাত্তার, মাসুম ওরফে আবদুর রউফ এবং রায়হান ওরফে উবায়েদ মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের (ডিবি) যুগ্ম-কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলায় সারাদেশে কমপক্ষে পাঁচশতাধিক মামলা হয়েছিল। তবে সকল মামলার তদন্ত কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে।

তিনি বলেন, এই সিরিজ বোমা হামলার মূলত দুইটা উদ্দেশ্য ছিল। এক. তাদের সংগঠনের প্রচার যার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ পাওয়া যায়। দুই. প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নেতা তৈরি করা।

জিএমবির এই হামলার পর তাদের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের ফাঁসি কার্যকর এবং বাকিদের সাজা প্রদান করা হলেও তাদের কেউ কেউ জেলেই মারা গেছে।

তাছাড়া তাদের অনেকেই জামিনে ছাড়া পেয়ে বিভিন্ন উপগ্রুপে দাওয়াতি কাজ করে যাচ্ছে। দেশের বাইরে বিভিন্ন স্থান থেকে নতুন করে তারা সংগঠিত হচ্ছে বলে দাবি করেন মনিরুল ইসলাম।

তবে সকলে মিলে চেষ্টা করলে দেশ থেকে জেএমবি নির্মূল করা সম্ভব বলে তিনি দাবি করেন।

সিরিজ বোমা হামলার পূর্ব কথা:

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ জেলা বাদে দেশের ৬৩ জেলায় সিরিজ বোমা হামলা চালায় জঙ্গীরা। রাজধানীসহ সারাদেশে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টায় এ হামলা চালানো হয়। দেশের ৩শ’ স্থানে মাত্র আধঘণ্টার ব্যবধানে একযোগে ৫শ’ বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে দু’জন নিহত ও দু’শতাধিক লোক আহত হয়।

সিরিজ বোমা হামলার স্থানসমূহে জামা’তুল মুজাহিদীনের লিফলেট পাওয়া যায়। লিফলেটগুলোতে বাংলাদেশে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করার বিষয়ে বক্তব্য লেখা ছিল। দেশের কর্মরত বিচারকদের প্রতি একটি বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়, দ্রুত এদেশে ইসলামী হুকুমত কায়েম করতে হবে। নতুবা কঠিন পথ বেছে নিতে বাধ্য হবে জেএমবি।

সিরিজ বোমা হামলার কিছুদিন পর আবার শুরু হয় ধারাবাহিক হামলা। তারই জের ধরে ওই বছরই ৩ অক্টোবর চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রামের জেলা আদালতে বিচার কাজ চলাকালে বেলা ১২টায় আবার একযোগে বোমা হামলা চালানো হয়।

এজলাসে ঢুকে বিচারককে লক্ষ্য করে বোমা ছুড়ে মারা হয়। তিন জেলা আদালতে প্রতি জেলায় ৩টি করে মোট ৯টি বোমা ছোড়া হয়। এর মধ্যে ৫টি বোমা বিস্ফোরিত হয়। বাকিগুলো অবিস্ফোরিত থাকে। এ ব্যাপারে চাঁদপুর ও চট্টগ্রামে দায়েরকৃত মামলায় ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এসব মামলায় শায়খ আব্দুর রহমান, বাংলাভাই, আতাউর রহমান সানি, জাভেদ ইকবাল, আবু জহর, জাহেদুল ইসলাম সুমন, শাহাদত হোসেন ও লাল্টুকে আসামি করা হয়।

এর ১৫ দিন পর ১৯ অক্টোবর সিলেটের দ্রত বিচার আদালতের বিচারক বিপ্লব গোস্বামীকে হত্যা করতে বোমা হামলা চালায় জঙ্গীরা। তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। কিন্তু বোমার আঘাতে মারাত্মক আহত হন।

এর মাসখানেক পরেই ১৫ নবেম্বর বহুল আলোচিত ঝালকাঠি শহরের অফিসার্সপাড়ায় জাজেস কোয়ার্টারের সামনে বিচারকদের বহনকারী মাইক্রোবাসে শক্তিশালী বোমা দিয়ে হামলা চালানো হয়। বোমা বিস্ফোরণে ঝালকাঠি জজ আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ সোহেল আহমেদ চৌধুরী ও জগন্নাথ পাঁড়ে নিহত হন। অল্পের জন্য রক্ষা পান আরেক বিচারক আব্দুল আউয়াল।

এ হামলার ঘটনায় ২টি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। এরপর ৩০ নবেম্বর গাজীপুর ও চট্টগ্রাম আদালতে পৌনে এক ঘন্টার ব্যবধানে আত্মঘাতী জঙ্গীরা গায়ে বোমা বেঁধে হামলা চালায়। এতে ২ জঙ্গীসহ ৯ জন নিহত ও শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়।

সর্বশেষ ২ ডিসেম্বর গাজীপুর জেলা আদালতে আবারও চায়ের ফ্ল্যাক্সে করে বোমা হামলা চালানো হয়। এতে ৭ জন নিহত ও অর্ধশত আহত হয়।

জঙ্গী গ্রেফতার:

বিভিন্ন হামলার সঙ্গে জড়িত জেএমবির আমির শায়খ আব্দুর রহমানকে ২০০৬ সালের ২ মার্চ সিলেটের পূর্ব শাপলাবাগ এলাকার সূর্র্য দীঘল বাড়ি থেকে, জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলাভাইকে একই বছর ৬ মার্চ ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার চেচুয়া বাজারের রামপুরা গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এছাড়া হুজি প্রধান মুফতি হান্নানকে ২০০৫ সালের ১ অক্টোবর রাজধানীর মধ্য বাড্ডা থেকে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অপারেশনাল কমান্ডার মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে ২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের বানিয়াচালা মসজিদ থেকে, আব্দুল আউয়াল ওরফে আদিলকে ২০০৫ সালের ১৮ নবেম্বর ঠাকুরগাঁও থেকে, জেএমবির শূরা সদস্য আতাউর রহমান ওরফে সানিকে ২০০৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে, হাফেজ রাকিব হাসান ওরফে মাহমুদকে ২০০৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে, মোঃ সালেহীন ওরফে সালাউদ্দিন ওরফে তৌহিদকে ২০০৬ সালের ২৫ এপ্রিল চট্টগ্রামের সিডিএ এলাকার একটি বাড়ি থেকে, ফারুক হোসেন ওরফে খালেদ সাইফুল্লাহ ওরফে সিরাজ ওরফে আমজাদকে ২০০৬ সালের ৪ এপ্রিল রাজধানীর ডেমরার কোনাপাড়া-ডগাইর এলাকার আইডিয়াল পাড়ের ৮ নম্বর বাড়ি থেকে, জেএমবির সামরিক কমান্ডার মোঃ মোহতাসিম বিল্লাহ ওরফে বশিরকে ২০০৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে, জেএমবির বোমা বিশেষজ্ঞ মোঃ জাহিদ হোসেন সুমন ওরফে বোমা মিজানকে ২০০৯ সালের রাজধানীর মিরপুর পীরেরবাগ এলাকা থেকে ও জেএমবির আইটি শাখার প্রধান বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার মোঃ এমরানুল হক ওরফে রাজীব ওরফে মঈনুল ওরফে আবু তোবা ওরফে ইকবালকে রাজধানীর পল্লবী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এদের মধ্যে ঝালকাঠির দুই বিচারক হত্যা মামলায় পরে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ঝালাকাঠিতে দুই বিচারক হত্যা মামলায় ২০০৬ সালের ২১ মার্চ মামুন, সুলতান হোসেন খান, শায়খ আব্দুর রহমান, আব্দুল আউয়াল, আতাউর রহমান সানি, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাই, শাকিল আহমেদ ওরফে মোল্লা ওমর (মৃত) ও মেহেদীসহ ৮ জনকে আসামি করে চার্জশীট দাখিল করা হয়।

২০০৬ সালের ৩০ মে মামলায় রায়ে শায়খ আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাই, আতাউর রহমান সানি, আব্দুল আউয়াল, মাসুম, খালিদ, সাইফুল্লাহসহ মোট ৭ জনকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ এদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

এমআর/ এআর