আবরারের মা রোকেয়া খাতুন ছেলের নৃশংস হত্যার ঘটনার পর টিভির সামনে যান না। ছেলের নিথর দেহ তুলে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখলে তিনি নিজেকে ঠিক রাখতে পারেন না।

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার চার্জশীট আদালতে জমা দেয়ায় আবরারের মা-বাবা এবং ভাই খুশি তবে প্রধানমন্ত্রী ও আইন মন্ত্রীর দেয়া প্রতিশুতি মোতাবেক দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে এই মামলাটি নিয়ে আসামীদের সকলকে ফাঁসি নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছেন তারা।

আজ বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের বাড়িতে ছেলে হত্যার মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ার খবর দেখতে ছোট ছেলেকে নিয়ে টিভির সামনে বসে ছিলেন তিনি।

আবরারের বাবা কর্মস্থলে থাকায় বাসায় পাওয়া যায়নি। ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ ও মা ঘরে বসেই টিভিতে আবরারের মামলার খবর দেখছিল। এ সময় আবরারের মা এবং ছোট ভাই সহ বাসায় থাকা অন্যরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

আবরারের হত্যার পর থেকে আবরারের মা কোনো সময় টিভির সামনে বসেনি। কারণ আবরার হত্যার করুন কাহিনী তার মাকে সব সময় পীড়া দিত। দীর্ঘ দিন পর আবরারের চার্জশীটের খবর শুনতে টিভির সামনে বসে কান্নারত অবস্থায় আবরারের মা জানান-আমার ছেলেকে যারা মেরেছে তাদের সকলকে ফাঁসি দিয়ে মারতে হবে।

আর যারা এখন গ্রেফতার হয়নি তাদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। আবরারের মা রোকেয়া খাতুন জানান-আমার আবরারকে ভালভাবে বুয়েটে রেখে আসলাম আর তারা আমার বেটাকে কত কষ্ট দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেললো।

আগে বললে, আমার আবরারকে বুয়েট থেকে নিয়ে এসে বাড়িতে এনে রাখতাম। প্রয়োজনে ছেলে আমার লেখাপড়া না করে কৃষি কাজ করে চলতো।

আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বলেন, ভাইয়ার হত্যার ঘটনায় আমরা পুরো পরিবারটি একেবারেই স্বাভাবিকতা হারিয়ে ফেলিছি। পুলিশের চার্জশীট দেয়ায় আমরা খুশি। আমরা হত্যাকারীদের ফাঁসি কার্যকর হলে আরো খুশি হবো।

ফাইয়াজ পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে জানান-পুলিশ অনেক আন্তরিকতা ও দ্রুততার সাথে চাজীশীট প্রদান করেছে। এজহারভুক্ত পলাতক ৪ আসামীকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানায় ফাইয়াজ।

মোবাইলে আবরারের বাবা বরকতউল্লাহ-জানান, আমি কর্মস্থলে আসি। তবে আবরারের চার্জশীট জমা দেয়ার খবর শুনেছি এতে আমি এবং আমার পরিবার খুশি।

এএস