সঞ্চয়পত্র ক্রয়কারী ব্যক্তি মারা গেলে আইনানুযায়ী তার উত্তরাধিকারীরাই ওই অর্থের মালিক হবেন মর্মে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত এক দেওয়ানি মামলার আপিল শুনানি শেষে বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার এই রায় দেন।

রায়ে বলা হয়, সঞ্চয়পত্রের নমিনি একজন ট্রাস্টি। তিনি অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। তবে ওই উত্তোলিত অর্থ উত্তরাধিকারী আইন অনুযায়ী সঞ্চয়পত্র ক্রয়কারী ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বন্টন করতে হবে।

সঞ্চয়পত্রের মালিকানা কার এই নিয়ে নিম্ন আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলাটি করেন সঞ্চয়পত্র ক্রয়কারী শহিদুল হক চৌধুরীর ছেলে মঞ্জুরুল হক চৌধুরী ও তার দুই বোন। মামলায় বলা হয়, তাদের পিতার অবর্তমানে ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রের মালিক হন তাদের সত্ মা। উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী ওই টাকা দাবি করে আদালতে মামলা করেন তারা। কিন্তু নিম্ন আদালত মামলা খারিজ করে দেয়। পরে হাইকোর্টে আপিল করেন তারা।

এ প্রসঙ্গে তাদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজনীন নাহার বলেন, আমার এক মক্কেলের বাবার বাংলাদেশ বাংকে সঞ্চয় ছিল। ওই সঞ্চয়পত্রে নমিনি ছিলেন অন্য ব্যক্তি। ক্লায়েন্টের বাবা মারা যাওয়ার পর সঞ্চয়পত্রের টাকার অংশীদার হতে বাংলাদেশ ব্যাংকে সাকসেশন সার্টিফিকেট আনতে যান।

কিন্তু ওই ব্যক্তি সঞ্চয়পত্রের নমিনি না হওয়ার কারণে সাকসেশন সার্টিফিকেট দেয়া হবে না বলে জানিয়ে দেয়া হয়। পরে সঞ্চয়পত্রের উত্তরাধিকারী দাবি করে ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে সিভিল মামলা করেন ওই ব্যক্তি। বিচারিক আদালত মামলা খারিজ করে দিলে হাইকোর্টে সিভিল আপিল দায়ের করা হয়। তিনি বলেন, হাইকোর্ট আপিল মঞ্জুর করে বলেছে, সঞ্চয়ের টাকা নমিনি উত্তোলন করতে পারবে তবে টাকার মালিক হবে উত্তরাধিকারীরা। তবে নমিনি যদি উত্তরাধিকারী হন তাহলে তিনিও টাকার ভাগ পাবেন।