আমার সাথে বেঈমানী করছিল। বেঈমানির ফল কি হয় দেহাই দিছি। কেউ পারে নাই। আমি মাইরা হেদাই দিলাম। ‘সাপকে মারলে সাপের বাচ্চারেও মাইরা ফালাইতে হয়। নইলে এক সময় প্রতিশোধ লয়। বাচ্চা দুটির উপর জিন আছর করছিল। জিনরাই বাচ্চা দুইডারে মাইরা ফালাইছে। আমার বিশ্বাস বাচ্চা দুইডা বাইচ্চা আছে।
বাচ্চা দু'টি হত্যার সম্পর্কে জনি বলেন, ‘বাচ্চা দুটি কান্নাকাটি করতাছিল। আফসানা বলছিল বাচ্চা দুইটারে মারিস না। ওদের ছেড়ে দে। মায়া মহব্বতের কারনে বাচ্চা দুইটারে কেউ মারতে পারতাছিল না। তখন তারা খাওন (ইয়াবা) খেয়ে টাল। আর তখনই বাচ্চা দুইটার উপর জিন আছর করল। আমি দেখতে পাইলাম। জিন কইল ঘার মটকে মেরে ফেল। আর তাই ঘার মটকে বাচ্চা দুইটারে মেরে ফেলাইছি। কিন্তু আমার বিশ্বাস বাচ্চা দুইটা মরে নাই। তারা এক প্রান। আর তাই তাদের এক কাপর দিয়ে বাধছিলাম। তয় ওরা কেউ পারে নাই। আমি মাইরা দেহায়া দিলাম। ’
কেরানীগঞ্জের দুই শিশুসহ চার চাঞ্চল্যকর হত্যার ঘটনায় মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে যাত্রাবাড়ী, মুন্সিগঞ্জ ও গাজিপুর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
এরপর তাদের নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয় ডিএমপি’র মিডিয়াপ সেন্টারে। সেখানে এক ফটোসেশন কালে হত্যাকান্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দেয় হত্যাকান্ডে অন্যতম অংশগ্রহনকারী জনি।
জনি বলছিল, ‘সাজুর বউরে আমি বইন ডাকছি। আর সাজু কোরআন অবমাননা করে আমার বউয়ের লগে অবৈধ সম্পর্ক করল। এই কারনে ওরে শেষ কইরা দিছি।’
হত্যার ঘটনার সম্পর্কে জনি বলেন, জীবনে অনেক ডাকাতী করেছে। কতটি সংখ্যা মনে নেই। ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে ডাকাত সুমন তাকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যায়। সুমন তখন ক্ষিপ্ত ছিল। ওই বাসায় সে ছাড়া তখন ডাকাত সুমন,আফসানা, সিএনজি সুমন ও নাসির ছিলেন। সাজুকে বেধে রেখে সাজুর স্ত্রী ও ছেলে মেয়েকে অন্য রুমে আটকে রাখে তারা।
জনি আরও বলেন, পরে সেখানে তারা খাওন (ইয়াবা) খেয়ে সাজুর উপর নির্যাতন চালায়। সাজু তাদের স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক থাকার কারনে সাজুর লিঙ্গে রশি দিয়ে ইট বেধে তাকে মারধর করেন। তখন এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে সাজুকে সবাই ধরে রাখে, সে ও ডাকাত সুমন মিলে সাজুকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেন।
সাজুর স্ত্রী রঞ্জিকে কেন হত্যা করা হলো এ প্রশ্নের জবাবে জনি ও অপর আসামী সিএনজি সুমন বলেন, সাজুকে বেধে মারধর করার পরও সাজুর স্ত্রী রঞ্জি কোন রকম কান্না কাটি না করা বা তাদের পা ধরে প্রাণ ভিক্ষা না চাওয়ায় সাজুর স্ত্রী রঞ্জি উপর তাদের রাগ হয়। আর তাকে বাঁচিয়ে রাখলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে বা প্রতিশোধ নিতে পারে বলেই রঞ্জিকে হত্যা করা হয়।
অপর গ্রেপ্তারকৃত আসামী সুমন ওরফে রফিক বলেন, তিনিই সাজুকে ওই বাসা ভাড়া করে দিয়েছেন। কিন্তু সাজু ডাকাত সুমনের একটি মোটরসাইকেল চুরি করে। আর নাম দেয় তার। তখন ডাকাত সুমন তার উপরও অনেক রাগ করেছিল। এক পর্যায়ে জানতে পারলেন যে, সাজুই মোটরসাইকেল চুরি করেছে। এছাড়া ডাকাত সুমনের স্ত্রী’র সঙ্গে সাজুর অবৈধ সম্পর্ক থাকায় ডাকাত সুমন সাজুকে শেষ করার পরিকল্পনা করেন। আর ঘটনার দিন তাকে ফোন করে ডাকাত সুমন বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পর সবাই মিলেই হত্যা করে সবাইকে।
ঢাকা, জেইউ, ২৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসআর





