জতীয়তাবাদী সমর্থিত ‘ঢাকা সাংবাদিক বহুমুখী সমবায় সমিতিকে’ নামমাত্র মূল্যে জমি বরাদ্দের মামলায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক পরিচালক মেহেদী হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রবিবার দুপুর সাড়ে ১২ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত দুদক কার্যালয়ে মামলার তদন্ত কমৃকর্তা ও দুদক উপ-পরিচালক যতন কুমার রায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক পরিচালক মেহেদী হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুদক এ তদন্ত কর্মকর্তা বিএনপি নেতা ও সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিসহ ২৩জনকে তলব করেন। ২১ সেপ্টেম্বর আলমগীর কবির এবং ২২ সেপ্টম্বর সাবেক সচিব ইকবাল উদ্দিনসহ ২২ জন সকাল ৯ টায় সাবেক এ প্রতিমন্ত্রীকে দুদক উপ পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা যতন কুমার রায়ের দফতরে হাজির হতে বলা হয়েছে। কিন্তু আলমগীর কবির দুদকে আসেননি। তবে এর বাইরে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক পরিচালক মেহেদী হাসান দুদকে এসেছেন।
এদিকে গত ১৪ সেপ্টম্বরের নোটিশ প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম নবী, গৃহায়ন ও গণ পূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব বিজন কান্তি সরকার, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল বারী খান, সাবেক চেয়ারম্যান এটিএম আতাউর রহমান, সাবেক বোর্ড সদস্য খালেকুজ্জামান, সাবেক বোর্ড সদস্য ইকরামুজ্জামান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুলতান আহমেদ, পূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারি সচিব বেঞ্জামিন হায়দার, গৃহায়ন কর্তপক্ষের সাবেক উপ-পরিচালক (কর্তমানে বোর্ড সদস্য) মোঃ আজহারুল হক, হিসাব সহকারি মোঃ মতিয়ার রহমান এবং সাবেক ক্যাশিয়ার মনসুর আলম প্রমুখ।
জানা যায়, ২০০৬ সালে চারদলীয় জোট সরকার রাজধানীর পল্লবীতে ঢাকা সাংবাদিক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের অনুকূলে ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যে প্রায় ৭ একর জমি বরাদ্দ দেয়া হয়। ওই জমির বাজারমূল্য প্রায় ১৮ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ৯০০ টাকা । ফলে সরকার ১ হাজার ৫৫২ কোটি ৫০ হাজার ৯০০ টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ বিষয়ে তৎকালীন সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত এসব কর্মকর্তাকে তলব করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ৬ মার্চ শাহবাগ থানায় দুদক বাদী হয়ে ওই সমিতির নামে জমি বরাদ্দে নানা অনিয়ম এবং দুনীতির অভিযাগে সাবেক গৃহায়ণ প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিরসহ সরকারের ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
ওই মামলার বাকি আসামিদের মধ্যে রয়েছেন,সাবেক উপপরিচালক ভুমি সম্পদ ব্যবস্থাপক কর্তৃপক্ষ ও বর্তমান সদস্য জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ মো. আজহারুল হক, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কোষাধ্যক্ষ মনসুর আলম এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান।
মামলা দায়েরের আগে দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তা উপ-পরিচালক যতন কুমার রায় গত বছর ২ অক্টোবর সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিরকে জিজ্ঞানসাবাদ করেন।
জানা যায়,সমিতির সদস্যদের নামের খসড়া তালিকা প্রথমে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়। তবে ওই তালিকায় সমিতির সব সদস্যের নাম ছিল না। সরকার থেকে ৭ একর জমি বরাদ্দ পাবার পরে সমিতির কর্মকর্তারা ২৮০ জন সদস্যের কাছ থেকে জনপ্রতি ২ লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়ে তাদেরকে সমিতির চূড়ান্ত সদস্য হিসেবে তালিকায় অন্তভুক্ত করা হয়।
ঢাকা, একে, ২১ সেপ্টম্বর. টাইমনিউজবিডি.কম,এসআর





