দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে মারাত্মকভাবে আহত ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসাসেবার বিষয়ে আদালতের আদেশ না মানায় স্বাস্থ্য ও সড়ক পরিবহন সচিবসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
আজ সোমবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে আইনজীবী শারমিন আক্তার ও রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনা ২০১৪-১৬ অনুয়ায়ী রাষ্ট্রের সব হাসপাতালে ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে জরুরি চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তার একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন তিন মাসের মধ্যে আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেন।
পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং চিকিৎসাপ্রাপ্তিতে বাধাপ্রাপ্ত হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি কোথায় অভিযোগ দাখিল করবেন সে বিষয়ে নীতিমালা তৈরি এবং এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সচেতনতা তৈরি করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
এ ছাড়াও হাইকোর্ট স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তিকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত কোনো ব্যক্তি যদি সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে তবে তাদের সুরক্ষার জন্য একটি নির্দেশনা তৈরির নির্দেশ দেন।
তিন মাস অতিবাহিত হলেও স্বাস্থ্য সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি প্রতিবেদন দেননি। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন বলে জানিয়েছেন রিট আবেদনের আইনজীবী শারমিন আক্তার।
আদালতে রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড ট্রাস্ট সার্ভিসেস (ব্লাস্ট) ও সৈয়দ সাইফুদ্দীন কামাল।
এমবি





