নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে পেঁয়াজের দাম অসহনীয় পর্যায়ে বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্যরা। একই সঙ্গে যেসব অসাধু ব্যবসায়ী পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর সঙ্গে জড়িত তাদের ক্রসফায়ারে দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

বাজারে পেঁয়াজের প্রচুর জোগান থাকলেও ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণে দাম বাড়ছে উল্লেখ করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে এ ব্যাপারে কথা বলেন তারা।

এদিকে মাত্রাতিরিক্ত দামে পেঁয়াজ বিক্রি করা এবং পেঁয়াজের মূল্য তালিকা না টাঙানোয় রাজধানীর শ্যামবাজারের আড়তে তিন দোকানকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে আন্তঃমন্ত্রণালয় অভিযানিক দল।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শ্যামবাজারের আড়তে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের এই জরিমানা করা হয়। শ্যামবাজারই রাজধানীতে পাইকারি পেঁয়াজের সবচেয়ে বড় মার্কেট।

বাণিজ্য, কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং সিটি করপোরেশনের সমন্বয়ে গঠিক এই অভিযানিক দলটিতে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল। অভিযানে বিভিন্ন দোকানে পেঁয়াজের বিপুল মজুদ দেখা গেছে।

এ সময় মেসার্স বাণিজ্যালয়, নিট বাণিজ্যালয়, সিকদার অ্যান্ড সন্স ও রফিক ট্রেডার্স নামে ৪টি দোকানে অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে রফিক ট্রেডার্স পাইকারি ১২০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করলেও বাকি দোকানগুলো পেঁয়াজ বিক্রি করছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে। পরে রফিক ট্রেডার্স ছাড়া বাকি ৩ দোকানকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল জব্বার মণ্ডল বলেন, পেঁয়াজ মজুদ করে বেশ কয়েকদিন ধরেই বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে— এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আজকের অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের শুরুতে নিট বাণিজ্যালয়ে পেঁয়াজের মজুদ পাওয়া গেছে।

কিন্তু তারা এর কোনো চালান দেখাতে পারেনি। তারা ১৭০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। মেসার্স বাণিজ্যালয় পেঁয়াজ বিক্রি করছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা দরে। তারাও পেঁয়াজ কেনার চালান দেখাতে পারেনি। একই অভিযোগ রয়েছে সিকদার অ্যান্ড সন্সের বিরুদ্ধেও।

জব্বার মণ্ডল জানান, দোকানগুলোতে বিভিন্ন পণ্যের মূল্য টাঙানো থাকলেও তাতে পেঁয়াজের দাম উল্লেখ নেই। এসব অসঙ্গতির কারণেই দোকানগুলোকে জরিমানা করা হয়েছে।

পেঁয়াজের আড়ত ছাড়াও দই বোরহানির কন্টেইনারের গায়ে লেবেল না থাকা (উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ ইত্যাদি না লেখা) এবং বাসি গ্রিল বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করার অপরাধে মতিঝিল এলাকার কয়েকটি রেস্তোরাঁকে ১০ হাজার টাকা করে এবং বিসমিল্লাহ রেস্তোরাঁকে ৩০ হাজার টাকাসহ ৫ প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এএস