একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে আপিলের পঞ্চম দিনের যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেছেন  আসামীপক্ষ।
সোমবার প্রধান বিচারপতি মো. মোজ্জাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের বেঞ্চে যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়।
প্রধান বিচারপতি ছাড়া অন্য বিচারপতিরা হলেন বিচারপতি এস কে(সুরেন্দ্র কুমার) সিনহা, বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।
সাঈদীর পক্ষে আজ যুক্তি দেয়া শুরু করেন আসামীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান।
এর আগে শাহজাহান সাঈদীর পক্ষে চার দিন যুক্তি দেন।
প্রথম দিন শাহজাহান রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীরা যে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন তা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন।
দ্বিতীয় দিনে সাঈদীর নাম একাত্তরের কোন বইয়ে রাজাকার হিসাবে নাই এবং তিনি যে পিরোজপুরের একজন কৃতি সন্তান তা প্রমাণের চেষ্টা করেছেন।
তৃতীয় দিনে শাহজাহান সাঈদীর বিরুদ্ধে দেয়া রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তার দেয়া সাক্ষ্যের বৈপরীত্য দেখিয়েছেন।
চতুর্থ দিনে শঅহজাহান ছয় নম্বর সাক্ষী মানিক পসারির করা মামলা ও ট্রাইব্যুনালে দেয়া তার সাক্ষ্যের মধ্যে গরমিল দেখিয়েছেন।
আজ তিনি আবার পঞ্চম দিনের যুক্তি দেয়া শুরু করেছেন।
রাষ্ট্রপক্ষে আছেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম।
এর আগে গত বছরের ২৫ নভেম্বর সাঈদীর মামলার শুনানি করা হয়েছিল। পরে বিরোধীদলের হরতাল-অবরোধের কারণে আর শুনানি করা হয়নি।
গত বছরের ২৪ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাঈদীর বিরুদ্ধে দেওয়া ট্রাইব্যুনালের রায়ের ১২০ পৃষ্ঠা রায় পড়ে শোনান এ মামলার প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক ও এডভোকেট এসএম শাহজাহান। রায় পড়া শেষে সাক্ষ্য উপস্থাপন শুরু করা হয়। এ পর্যন্ত ১৯ কার্য দিবস মামলাটির আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি  জেনারেল মাহবুবে আলম ও ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান সমন্বয়কারী অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান।
আসামিপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিক।  
মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মাওলানা সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্রথম ট্রাইব্যুনাল।
এ রায়ের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৮ মার্চ মাওলানা সাঈদী ও সরকারপক্ষ পৃথক দু’টি আপিল (আপিল নম্বর: ৩৯ ও ৪০) দাখিল করেন।
ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ৩ (টাইমনিউজবিডি.কম) // জিই//এসএইচ