স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানার জায়গায় নির্মিত আবাসন প্রতিষ্ঠান কনকর্ডের ১৮ তলা ভবন এতিমখানাকে বুঝিয়ে দিতে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।
দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই আদেশের ফলে রাজধানীর আজিমপুরে অবস্থিত এই ভবন এতিমখানাকে বুঝিয়ে দিতেই হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে কনকর্ডের করা লিভ টু আপিল খারিজ করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ আজ সোমবার এই আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। আর এতিমখানার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামান ও অনিক আর হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
আদালত থেকে বের হয়ে অনিক আর হক গণমাধ্যমকে বলেন, আবাসন প্রতিষ্ঠান কনকর্ডের লিভ টু আপিল খারিজ হয়ে যাওয়ায় যত দ্রুত সম্ভব এতিমখানাকে ওই ভবন বুঝিয়ে দিতে হবে।
২০১৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে জারি করা এক রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজিমপুরে স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানার জায়গায় আবাসন প্রতিষ্ঠান কনকর্ডের তৈরি ১৮ তলা ভবন এতিমখানাকে হস্তান্তরের আদেশ দেন। একই সঙ্গে চার দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট।
চার আদেশ হলো- ০১. আজিমপুর এতিমখানার সম্পত্তি সংরক্ষণ করতে হবে, ০২. এতিমখানার সম্পত্তি হস্তান্তর সম্পর্কে ২০১৩ সালের ২২ জুলাইয়ের দলিল এবং ২০১৪ সালের ১৩ এপ্রিলের আমমোক্তার নামা দলিল বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। কারণ সেগুলো শুরু থেকেই বাতিল। ০৩. এতিমখানার জায়গায় কনকর্ডের তৈরি ১৮ তলা ভবন এতিমখানার পক্ষে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং ০৪. কনকর্ডকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে স্থাপনা ও সম্পত্তি এতিমখানাকে বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছে। ব্যর্থতায় সরকারকে সম্পত্তি বুঝিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং এতিমখানার প্রয়োজনে ডেভলপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে এই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে আবাসন প্রতিষ্ঠান কনকর্ড।
রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, ১৯০৯ সালে ঢাকার নবাব ‘সলিমুল্লাহ এতিমখানা’ স্থাপন করেন এবং পরবর্তী সরকারের কাছ থেকে আজিমপুর সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন সময় জমি লিজ নিয়ে পরিচালনা করে আসছে। ২০০৩ সালের ২২ জুলাই এতিমখানার সভাপতি শামসুন্নাহার ও সেক্রেটারি জি এ খান আহসান উল্লাহ এতিমখানার দুই বিঘা জমি ডেভলাপার কোম্পানি কনকর্ডের কাছে হস্তান্তর করেন। এতিমখানার সম্পত্তি অবৈধ হস্তান্তর সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ পায়। পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর তা সংযুক্ত করে চারজন ছাত্রের পক্ষে রিট পিটিশন দায়ের করেন মনজিল মোরসেদ। পরবর্তীতে উক্ত রিট পিটিশনে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) পক্ষভুক্ত হয়।
রিট আবেদনে বলা হয়, এতিমখানার সম্পত্তি সরকারের কাছ থেকে লিজ নেওয়া এবং লিজ চুক্তিতে এতিমখানার সম্প্রসারণের জন্য বিনামূল্যে দেওয়া হয় এবং শর্ত ছিল- প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন ব্যাতীত অন্য কোনো কাজে জমি ব্যবহার করা যাবে না। তা সত্ত্বেও এতিমখানার সভাপতি ও সেক্রেটারি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে আর্থিক লাভবান হয়ে এতিমখানার সম্পত্তি কনকর্ড গ্রুপের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন।
জেড





