কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসা শুরু করার অনুমতি দেননি বলে জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মেডিকেল বোর্ড। হাসপাতালের দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, অ্যাজমা ও আর্থ্রাইটিজের সমস্যা রয়েছে। তবে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু আর্থ্রাইটিজের চিকিৎসার জন্য অনুমতি দেননি।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্টে বেঞ্চে রিপোর্ট উপস্থাপন করেন।
এরপর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি শুরু হয়।
খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, খন্দকার মাহবুব হোসেন, মওদুদ আহমদ, এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন। উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে খুরশিদ আলম খান অংশ নেন। ১১টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত শুনানি চলে। এরপর আদালত দুপুর ২টায় আদেশ দেবে জানিয়ে শুনানি শেষ করেন।
এদিকে জামিন শুনানিকে ঘিরে হাইকোর্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। প্রত্যেককে তল্লাশি করে ও পরিচয়পত্র যাচাই করে তবেই হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, আদালতের নির্দেশানুযায়ী গতকাল বুধবার দুপুরে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা-সংক্রান্ত মেডিকেল রিপোর্ট জমা দেয় বিএসএমএমইউ। এরপর জামিন আবেদনের শুনানি এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে জরুরি বৈঠক করেন বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণীয় ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরাও। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জামিন আবেদনের ওপর আদেশকে কেন্দ্র করে সবার চোখ আজ উচ্চ আদালতের দিকে। বিএনপি নেতা ও আইনজীবীরা বলছেন, ন্যায়বিচার পেলে খালেদা জিয়া জামিন পাবেন বলে আশাবাদী।
২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা করা হয়। ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
তদন্ত শেষে ২০১২ সালে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদাসহ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। সাক্ষ্য গ্রহণ কার্যক্রম শেষ হলে দুদকের পক্ষে এই মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণা করা হয়।
এএইচ





