বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগের (লালবাগ জোন) পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন- শামসুল আরেফিন রাফাত (২১), মনিরুজ্জামান মনির (২১) ও আকাশ হোসেন (২১)। এর আগে সোমবার (০৭ অক্টোবর) রাতে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ওবায়দুর রহমান বলেন, বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর জিগাতলা এলাকা থেকে শামসুল আরেফিন রাফাতকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ (দক্ষিণ)। তিনি বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী।

ডিবি দক্ষিণ বিভাগের (লালবাগ জোন) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার খন্দকার রবিউল আরাফাত জানান, সন্ধ্যায় ডেমরা থেকে মনিরুজ্জামান মনিরকে ও গাজীপুরের বাইপাল থেকে আকাশ হোসেনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। মনির বুয়েটের ওয়াটার রির্সোসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এবং আকাশ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।  

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল (সোমবার) আবরারের বাবা ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করেছেন। রাতেই ১০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এনিয়ে আবরার হত্যার ঘটনায় মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হলো।

গ্রেফতারদের মধ্যে ৭জনের নাম ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের তালিকাতেও আছে। এরা হলেন- মেহেদী হাসান রাসেল, মুহতাসিম ফুয়াদ, মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, ইফতি মোশাররফ সকাল ও মুনতাসির আল জেমি। এই হত্যাকাণ্ডের পর সোমবার (০৭ অক্টোবর) রাতে ১১ জনকে স্থায়ীভাবে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের কথা জানায় ছাত্রলীগ।

বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের ফাঁসিসহ ৮ দফা দাবিতে মঙ্গলবার (০৮ অক্টোবর) দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আবরার ফাহাদ বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (ইইই) বিভাগের লেভেল-২ এর টার্ম ১ এর ছাত্র ছিলেন। তিনি শের-ই বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। তার বাড়ি কুষ্টিয়া শহরে। কুষ্টিয়া জেলা স্কুলে তিনি স্কুলজীবন শেষ করে নটরডেম কলেজে পড়েন।

এমবি