কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী তনু ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে নয়াদিল্লীস্থ সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটির সম্মিলিত শিক্ষার্থীরা ২৮ মার্চ বিকেল সাড়ে তিনটায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে এক মৌন প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করে।

প্রতিবাদ কর্মসূচিটি পিছিয়ে নিতে হাইকমিশনের কর্মকর্তারা বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী এবং প্রশাসনে নিযুক্ত বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের চাপ দেন।

কর্মসূচি পিছিয়ে নেয়ার কারণ হিসেবে কর্মকর্তারা জানান, ২৮ মার্চ দূতাবাস স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নৈশভোজের আয়োজন করেছে, যেখানে বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আমন্ত্রিত। সকলের সামনে এমন একটি প্রতিবাদে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে এবং তনু হত্যা-ধর্ষণের মতো বিষয়টি অনেকেই জেনে আতংকিত হবে। তারা ২৮ তারিখ বাদ দিয়ে অন্য কোন দিন কর্মসূচি পালনের জন্য তাগিদ দেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ কর্মসূচি পেছানো সম্ভব নয় জানালে, কর্মকর্তারা বলেন, সেক্ষেত্রে এর সব দায় শিক্ষার্থীদের বহন করতে হবে। সার্বিক বিবেচনায় নির্ধারিত প্রতিবাদ কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায় এবং শিক্ষার্থীরা হাইকমিশনের বেধে দেয়া তারিখে কর্মসূচির সময় পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোচ্চার শিক্ষার্থীরা ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছে। প্রতিবাদ সভার বিষয়- সাউথ এশিয়ায় যৌন নিপীড়নের ঘটনায় রাষ্ট্রের নীরবতা: প্রেক্ষিত বাংলাদেশের তনু ধর্ষণ ও খুন (স্টেটস সাইল্যান্ট অন দ্যা সেক্সুয়াল ভায়োলন্স ইন সাউথ এশিয়া: রিফ্লেকশনস অন তনু’স রেইপ অ্যান্ড কিলিং ইন কুমিল্লা, বাংলাদেশ)। বিশ্ববিদ্যালয়টির আট দেশের শিক্ষার্থীরা এই ঘটনায় সোচ্চার এবং দ্রুত বিচারের দাবিতে বাংলাদেশ সরকার বরাবর খোলা চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তনু ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার দ্রুত বিচার চেয়ে এবং সব ধরনের হত্যা-খুন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি ঘোষণার কথাও জানান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার শিক্ষার্থীরা।

 

এমআইএস।