বৃদ্ধা মায়ের উপর ছেলে, বউ ও নাতির অত্যাচারের ঘটনায় জবানবন্দি রেকর্ড করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন বিচারক ও চট্টগ্রামের আইনজীবীরা।

আদালতে বৃদ্ধা মা জবানবন্দিতে বলেন, "রমজানের রোজা রাখতে সেহরি খেয়ে মাত্র বসেছি। এ সময় বাসায় আসে ছেলে,বউ ও নাতি। বাসায় ঢুকেই তিনজন মারধর শুরু করে। অসহ্য যন্ত্রণায় হাউমাউ করে কাঁদছি। এরপর আমাকে একটি বস্তায় ভরে পাঁচতলায় থেকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। আমার চিৎকারে অন্য ছেলেরা এসে আমাকে বাঁচায়।" কাঁদলেন বিচারক ও আইনজীবীরা।

আদালতের কাঠগড়ায় হুইল চেয়ারে বসে কাঁদতে কাঁদতে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ছেলে, বউ ও নাতির বিরুদ্ধে নির্মম নির্যাতনের জবানবন্দি (সাক্ষ্য) দিলেন ৭০ ঊর্ধ্ব এক হতভাগ্য মা রওশন আরা বেগম। এ সময় বৃদ্ধার আর্তনাতে ভারী হয়ে উঠে আদালতের পরিবেশ।

বুধবার চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম মশিউর রহমান চৌধুরীর আদালত জবানবন্দি রেকর্ড করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন মাননীয় হাকিম। চোখের পানি পড়তে দেখা গেছে উপস্থিত অর্ধশত আইনজীবী, সাক্ষী দিতে আসা পুলিশ কর্মকর্তা ও উপস্থিত বিচার প্রার্থীদেরও।

এ মামলার আসামিরা হলো-ছেলে রহমত আলী, তার স্ত্রী শাহনাজ আক্তার ও তাদের সন্তান আবিদ। মায়ের সাক্ষ্যদানের সময় আদালতে উপস্থিত তিন আসামি নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ছিল।

চট্টগ্রাম মহানগর এপিপি গোবিন্দ নারায়ণ রায় বলেন, "নগরীর ১০২ প্রবর্তক মোড়ের পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় রওশন আরা বেগমের একটি পাঁচতলা ভবন ও জায়গা রয়েছে। এ সম্পত্তি নিয়ে ছেলেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। ২০১৩ সালের ১৯ আগস্ট রাত ৩টায় রহমত আলী, শাহনাজ ও আবিদ ঘরে ঢুকে রওশন আরা বেগমকে নির্মম নির্যাতন করে বস্তায় ভরে পাঁচতলা থেকে ফেলে খুন করার চেষ্টা করে।"

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম নির্যাতনকারী ছেলে রহমত আলী ও তার স্ত্রী শাহনাজকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "আদালত আবেগপ্রবণ হয়নি, আবেগতাড়িতও হয়নি। এ আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আপনারা খালাস পাবেন, না শাস্তি পাবেন জানি না। তবে কেয়ামতের দিন আল্লাহর আদালতে আমাকে সাক্ষ্য দিতে ডাকা হলে সেদিন এ মায়ের চোখের পানি পড়ার বিষয়ে সাক্ষ্য দেব।"

৭০ ঊর্ধ্ব রওশন আরাকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অপ্রাসঙ্গিক জেরা করতে চাইলে আদালত বলেন, "আমি, আপনি, আমরা সবাই কোনো না কোনো মায়ের সন্তান। এ বিচারে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ব্যত্যয় ঘটালে পরকালে আমাদের কোনো ক্ষমা হবে না। তাই অন্ততপক্ষে এ মামলায় আমরা যেন ইমান নষ্ট না করি।" সুত্র-সমকাল

এসএইচ