আগামীকাল রোববার জাতীয়তাবাদী সমর্থিত ঢাকা সাংবাদিক বহুমুখী সমবায় সমিতিকে পল্লবীতে ৭ একর জমি বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় সাবেক পূর্ত মন্ত্রী মির্জা আব্বাস ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমা হচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)।

জানা যায়, তদন্ত প্রতিবেদনে সুপারিশকৃত চার্জশিটে অভিযুক্ত ৫ আসামি হলেন; সাবেক পূর্ত মন্ত্রী মির্জা আব্বাস, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান, পরিচালক মেহেদী হাসান, সবেক উপ পরিচালক ভুমি সম্পদ ব্যবস্থাপক কর্তৃপক্ষ ও বর্তমান সদস্য জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ মো. আজহারুল হক।

দুদক পরিচালক যতন কুমার রায় দীর্ঘ ৮ মাস এ মামলাটি তদন্ত শেষে খসড়া প্রতিবেদনে (চার্জশিটে) ৫জনকে অভিযুক্ত করে কমিশনের সংশ্লিষ্ট শাখায় তার প্রতিবেদন জমা দিচ্ছেন।

আর এ তদন্ত প্রতিবেদনে নতুন ভাবে অভিযুক্ত করা হয়, সাবেক পূর্ত মন্ত্রী মির্জা আব্বাস,জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান, পরিচালক মেহেদী হাসানকে।

একই সঙ্গে এফআইআর ভুক্ত ৪ আসামির মধ্যে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কোষাধ্যক্ষ মনসুর আলম এবং জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মতিয়ার রহমানকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ রয়েছে।

এদিকে ৬ মার্চ দুদক শাহবাগ থানায় ঢাকা সাংবাদিক বহুমুখী সমবায় সমিতিকে জমি বরাদ্দের দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক গৃহায়ণ প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিরসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক।

আর এ মামলার অপর ৩ আসামি হলেন, সবেক উপ পরিচালক ভুমি সম্পদ ব্যবস্থাপক কর্তৃপক্ষ ও বর্তমান সদস্য জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ মো. আজহারুল হক, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কোষাধ্যক্ষ মনসুর আলম এবং জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান।

এ মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৬ সালে চারদলীয় জোট সরকার ঢাকা সাংবাদিক বহুমুখী সমবায় সমিতিকে মাত্র ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যে প্রায় ৭ একর বরাদ্দ দেয়া হয়।

তখন জমির বাজার মূল্য ছিল প্রায় ১৮ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ৯০০ টাকা। ফলে সরকার ১ হাজার ৫৫২ কোটি ৫০ হাজার ৯০০ টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা যতন কুমার রায় মামলার তদন্তকালে একাধিক বার নোটিশ পাঠিয়ে দুদকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করেন সাবেক গূর্ত মন্ত্রী মির্জা আব্বাস ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির, সবেক উপ পরিচালক ভুমি সম্পদ ব্যবস্থাপক কর্তৃপক্ষ ও বর্তমান সদস্য জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ মো. আজহারুল হক, বোর্ড সদস্য মো. ইকরামুজ্জান, সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল বারী খান, সাবেক চেয়ারম্যান খালেকুজ্জামান, সাবেক চেয়ারম্যান আবু সাঈদ, সাবেক চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান, সিনিয়র সহকারি সচিব বেঞ্জামিন হায়দার, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সচিব আমিনুর রহমান, যুগ্ম-সচিব জুবায়ের আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুলতান আহমেদ এবং নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

তবে সাবেক গণপূর্ত মন্ত্রী মির্জা আব্বাস এবং বর্তমান নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খানসহ ডজনকে সরকারি কর্মকর্তা নোটিশ পেয়ে দুদকে আসেন। কিন্তু আবার এ নোটিশ করার পরও বেশ কয়জন সরকারি কর্মকর্তার দুদকে আসেননি।

একে/এসএইচ