স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, জঙ্গিবিরোধী অভিযানের মতোই মাদকবিরোধী অভিযানেও জনসম্পৃক্ততা গড়ে তোলা হবে।
দেশব্যাপী মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার কাজ আরও জোরদার করা হবে। বুধবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নগরভবন মিলনায়তনে ‘মাদক, সন্ত্রাস ও সরকারি সম্পত্তির অবৈধ দখলমুক্ত’ করতে করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের কারাগারগুলোতে ৩০ হাজার লোকের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ৯০-৯৫ হাজার লোক রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ ভাগই মাদক ব্যবসায়ী।
এ অবস্থা থেকে দেশকে বের করে আনতে নানা ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রম আরও ব্যাপক করা হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের চিকিৎসাসহ সার্বিক সহযোগিতা দেবে সরকার।
তিনি আরও বলেন, ডিএসসিসি এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত, অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং ডিএসসিসির সব ধরনের কার্যক্রমে পুলিশের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, অবৈধ দখলকারীদের কোনো প্রশ্রয় দেয়া হবে না। শুধু আশপাশের এলাকায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার হকার ছিল। যাদের কারণে মানুষ হাঁটতে পারত না।
ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে সড়ক ব্যবহার করত। এতে দুর্ঘটনা প্রায় লেগেই থাকত। আমরা পথচারীদের চলাফেরা নির্বিঘ্ন করতে হকার উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করছি।
তিনি আরও বলেন, রমজানে মানবিক কারণে ফুটপাতে বসার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। তারা এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফুটপাত ছাড়ছিল না। এখন তাদের উচ্ছেদের মাধ্যমে রাস্তা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে চাই।
চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তুলে ধরে ডিএসসিসি মেয়র বলেন, পুরান ঢাকার যেসব বাড়িতে কারখানায় ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসব কেমিক্যাল অপসারণে বৃহস্পতিবার অভিযান শুরু হবে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব শহিদুজ্জামান, জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ডা. অরূপ রতন চৌধুরী, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মুহিত কামাল প্রমুখ।
এএস





