হাইকোর্টের বিচারক ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজীর এলএলবি সনদ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক, প্রকাশক ও প্রতিবেদকের হাইকোর্টের করা জরিমানা মাফ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
অপরদিকে দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রতিবদককে করা হাইকোর্টের জরিমানা বহাল রেখেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার বিচারক নাজমুন আরা সুলতানার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
বিচারকের সনদ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করায় দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক, প্রকাশক ও প্রতিবেদককে এক হাজার টাকা জরিমানা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের আদেশে তাদের জরিমানা মাফ করে দেন।
একই অভিযোগে দৈনিক ভোরের কাগজের তৎকালীন সম্পাদক আবেদ খান ও প্রতিবেদক সমরেশ বৈদ্যর জরিমানা বহাল রেখেছেন আদালত।
আদালতে আসামীপক্ষে ছিলেন ড.কামাল হোসেন। ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি।
১৯৮৯ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চট্টগ্রাম আইন কলেজ থেকে এলএলবি প্রিলিমিনারি ও ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেন ফয়সল মাহমুদ ফয়েজী। পরে তিনি হাইকোর্টের বিচারপতি নিয়োজিত হলে তার এলএলবি সনদ নিয়ে ২০০৪ সালের ৩০ অক্টোবর প্রথম আলো ও দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে তার এলএলবি প্রিলিমিনারি পরীক্ষার টেব্যুলেশন শিটে অনিয়ম রয়েছে বলে অভিযোগ উঠে।
পরে পত্রিকা দুইটির প্রতিবেদন বিষয়ে হাইকোর্টে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে মামলা করেন ফয়েজীর পিতা সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফয়েজ।
২০০৫ সালের ২১ মার্চ এ মামলায় রায়ে প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান, প্রকাশক মাহফুজ আনাম, প্রতিবেদক একরামুল হক বুলবুল ও মাসুদ মিলাদকে এক হাজার টাকা করে জরিমানা করেন আদালত।
একই সঙ্গে ভোরের কাগজের প্রতিবেদক সমরেশ বৈদ্যকে দুই মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা এবং পত্রিকাটির ওই সময়ের সম্পাদক আবেদ খান ও প্রকাশক সাবের হোসেন চৌধুরীকে এক হাজার টাকা করে জরিমানা করেন আদালত।
২০০৪ সালের ৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সভায় পরীক্ষায় জালিয়াতি, নম্বরপত্র ও সদনপত্রে অনিয়ম খুঁজে বের করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
ওই কমিটির প্রতিবেদনে ফয়েজীর ব্যাপারে বলা হয় যে, তার প্রিলিমিনারি পরীক্ষার রোল-১৯৩৪, ফাইনাল পরীক্ষার রোল-৩৬৫২। দুই পরীক্ষার অংশ গ্রহণের সাল ১৯৮৯। উভয় পরীক্ষাতে ফলাফল দেখানো আছে তৃতীয় শ্রেণী। তদন্ত প্রতিবেদনের মন্তব্যে বলা হয় টেব্যুলেশন শিটে ঘষামাজা।
২০০৭ সালের ৩ মার্চ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিচারক ফয়েজীর এলএলবির সনদ বাতিল করে দেয়। একই বছরের ৪ মার্চ ফয়েজীকে হাইকোর্টের বিচারকাজ থেকে প্রত্যাহার করে নেন প্রধান বিচারপতি।
এরপর ফয়েজীর এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই বছরের ১৯ মার্চ তার এলএলবি সনদ বাতিলের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে হাইকোর্ট।
পরে একই বছরের ১২ জুলাই সনদ জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত বিচারক ফয়সল মাহমুদ ফয়েজী হাইকোর্ট থেকে পদত্যাগ করেন।
২০০৪ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান ফয়েজী। পরে ২০০৬ সালের ২২ অগাস্ট তিনি স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান।
[b]ঢাকা, জিই ১৩ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম)
[/b]
প্রথম আলোর জরিমানা মওকুফ
হাইকোর্টের বিচারক ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজীর এলএলবি সনদ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক, প্রকাশক ও প্রতিবেদকের জরিমানা মাফ করে দিয়েছেন আপি
রোববার আপিল বিভাগে বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে
অবকাশকালীন ছুটির পর প্রথম কার্যদিবস আগামী রোববার (২৫ অক্টোবর) আপিল বিভাগের এক নম্বর কোর্টের বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার আপিল শুনানি ৮ ডিসেম্বর
বহুল আলোচিত দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি হবে আগামী ৮ ডিসেম্বর। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সোমবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ দিন ধার্য করেন।
`অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে দুর্নীতি ও নোট বাণিজ্য বরদাশত হবে না’
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে নোট বাণিজ্য, দুর্নীতি ও অনৈতিক সিন্ডিকেটের কোনো জায়গা থাকবে না বলে হুঁশিয়ার করেছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেছেন, ‘যতদিন আমি এই কার্যালয়ে আছি, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কোনো ধরনের দুর্নীতির জায়গা থাকবে না।’ আইন কর্মকর্তাদের পেশাগত নৈতিকতা, স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতা জোরদারে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করে তিনি এসব কথা বলেন।
গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর: স্থগিতাদেশ দেননি চেম্বার আদালত
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি কর পরিশোধে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে আপাতত কোনো স্থগিতাদেশ দেননি সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত। তবে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেবে না বলে আদালতকে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
বার সভাপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির বাকবিতণ্ডা, এজলাস ছাড়লেন আপিল বিভাগ
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের জেরে এজলাস ছেড়ে খাস কামরায় চলে গেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ।
















