মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের চূড়ান্ত রায় প্রকাশ।করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মুজাহিদের ১৯১ পৃষ্ঠার এবং সাকা চৌধুরীর ২১৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর আগে রায়ে স্বাক্ষর করেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাসহ আপিল মামলার রায় প্রদানকারী চার বিচারপতি। অন্য বিচারপতিরা হচ্ছেন, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত ১৬ জুন মুজাহিদ এবং ২৯ জুলাই সাকা চৌধুরীর মামলার সংক্ষিপ্ত চূড়ান্ত রায় দেন আপিল বিভাগ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে চার সদস্যের একই আপিল বেঞ্চ পৃথক পৃথক এ রায় দেন।

পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর মুজাহিদ-সাকা চৌধুরীর প্রাণদণ্ড কার্যকর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালো বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তারা জানান, এ রায় কার্যকর করতে আর মাত্র তিনটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে।

বিধি মোতাবেক রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ (পুর্নবিবেচনা) করতে পারবেন আসামি ও রাষ্ট্র উভয় পক্ষই। দু’জনের চূড়ান্ত রায় প্রকাশের পর পরই বুধবার বিকেলে তাদের প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার পর তারা রিভিউ করবেন।

তবে সর্বোচ্চ সাজা বহাল থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ রিভিউয়ে যাবেন না এটি নিশ্চিত।

রিভিউ করার পর সর্বোচ্চ আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। রিভিউ আবেদনের নিষ্পত্তির পর সর্বোচ্চ দণ্ড বহাল থাকলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন আসামি। প্রাণভিক্ষা না চাইলে সুবিধামতো সময়ে দণ্ড কার্যকর করবে রাষ্ট্র।

এ নিয়ে ঘোষিত পাঁচটি চূড়ান্ত রায়ের মধ্যে চারটির পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করলেন সর্বোচ্চ আদালত। প্রকাশিত অন্য দু’টি পূর্ণাঙ্গ রায় অনুসারে জামায়াতের দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির দণ্ড এরই মধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।

অন্যদিকে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন আপিল বিভাগ। সাঈদীর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর সর্বোচ্চ সাজা পুনর্বহালের আরজিতে রিভিউ আবেদন জানাবেন বলে জানিয়ে রেখেছেন রাষ্ট্রপক্ষ।

আর ট্রাইব্যুনাল আপিল বিভাগে আসা ১৫টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার মধ্যে আটটির শুনানি শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে। বাকি দু’টি আপিল শুনানি অকার্যকর করা হয়েছে। এর মধ্যে ট্রাইব্যুনালের রায়ে ৯০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম ও আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির সাবেক নেতা সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীম মৃত্যুবরণ করায় তাদের আপিল আবেদনের ওপর শুনানি হবে না।

এমকে