কোনো ধরনের নারী ও শিশু নির্যাতন বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম।

মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত শিশু ও নারী নির্যাতনের লোমহর্ষক, পাশবিক ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, বিগত দুই মাস ধরে নারী ও শিশু নির্যাতনের যে ঘটনাগুলো আমাদের সামাজে ঘটছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ছয় বছরের কন্যাশিশু ধর্ষণের হাত থেকে রেহাই পায় না। সমাজের বিবেক যদি জাগ্রত না হয়, পরিবার যদি অভয়আশ্রয় না হয়, তরুণ সমাজ যদি রুখে না দাঁড়ায় তাহলে সমাজে এই ধরণের ঘটনার কোন প্রতিকার হবে না।

তিনি আরও বলেন, চলমান জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নারী এবং শিশু নির্যাতনের ঘটনাটাকে যেন গুরুত্ব সহকারে আলোচনায় আনা হয়। পাশাপাশি নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে পৃথক করা হয়। তাহলে নারী এবং শিশু উভয়ের ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্বারোপ করা সম্ভব হবে।

লিখিত বক্তব্যে সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট দীপ্তি রানী সিকদার বলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ৮০ এর দশক থেকে নারী নির্যাতন প্রতিরোধের কাজ শুরু করে। বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বহুমাত্রিক পদ্ধতিতে দেশব্যাপী কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে যে আইনগুলে  হয়েছে সেই আইনগুলোর ব্যাপক প্রচার দরকার। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে এ কাজ করতে হবে।পারিবারিক সুরক্ষামূলক যে আইনগুলো হয়েছে তা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার করা।টিভি স্পটের মাধ্যমে দেশবাসীকে সচেতন করা।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে প্রচলিত ধর্ষণ আইন সংশোধন, সংস্কার একান্ত প্রয়োজন। ধর্ষণকারীকে প্রমাণ করতে হয় যে, সে ধর্ষণকারী নয়। এই আইন সংশোধণ না করলে ধর্ষণ কমানো সম্ভব হবে না।নারী ভোগ্যপণ্য নয়, নারী মানুষ এটাই পরিবার সমাজ রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গী ও সংস্কৃতি হওয়া প্রয়োজন।

স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যসূচিতে নারী-পুরুষ সমতার ধারণা, নারীর মানবাধিকার ইস্যুসমূহ সমন্বিতভাবে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিচার প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতাসীনদের প্রভাব ও প্রতাপের কারণে নির্যাতনের শিকার মামলায় সুফল আনা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়।পরিবারগুলোতে ক্ষমতাসীন প্রতাপশালী দুর্বৃত্তপরায়ন ব্যাক্তিদের সহায়তায় নির্যাতনকারী আসামীগণ কারাগার থেকে বের হয়ে এসে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

এর প্রতিকার সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রসাশনকেই নিতে হবে; আমাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব সেপ্টেম্বর মাসে যে সংসদ অধিবেশ শুরু হবে সেখানে বিশেষ করে নারী ও শিশুর উপর নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি প্রদান ও এর প্রতিকারের বিষয়ে কথা বলা একান্ত জরুরী বিষয় বলে বিবেচনা করা দরকার।পরিবারগুলোকে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে অন্যতম দুর্গ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে যাতে কিশোর বয়স থেকে নারীকে সম্মান করতে শিখে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানমের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অন্যতম সহ-সভাপতি নাহার আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রাখী দাশ পুরকায়স্থ, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম, কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক অ্যাড. আফিফা বেগম স্বপ্না, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি মাহতাবুন নেসা, ডিরেক্টর লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি এন্ড লবি অ্যাড. মাকছুদা আখতার, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড. রাম লাল রাহা প্রমুখ।

এমএ