মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর আইনজীবী আসাদ উদ্দিনকে ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জ যাওয়ার পথে গাড়ি থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেছে জামায়াত।
একই বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের আইনজীবী এডভোকেট শিশির মনিরের বাসায় পুলিশি তল্লাশিরও নিন্দা জানিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এ অভিযোগ করেন।
বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ডিফেন্স টিমের সম্মানিত আইনজীবীদেরকে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নানাভাবে হয়রানি করছে।"
তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে দেয়া ট্রাইব্যুনাল প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টে দায়ের করা আপীল নিষ্পত্তির দায়িত্বে নিয়োজিত আইনজীবী এডভোকেট আসাদ উদ্দিন আজ ঢাকা থেকে তার নিজ বাড়ি সিরাজগঞ্জে যাওয়ার পথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এছাড়া ডিফেন্স টিমের আইনজীবী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের রিভিউ নিষ্পত্তির দায়িত্বে নিয়োজিত অন্যতম আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনিরের বাসায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশ হানা দেয়।
মুজাহিদের রিভিউ নিষ্পত্তির তারিখ আগামী ২ নভেম্বর নির্ধারিত রয়েছে। আর মাওলানা নিজামীর আপীল শুনানির তারিখ নির্ধারিত আছে ৩ নভেম্বর। শিশির উভয় মামলায় নিয়োজিত আইনজীবী। তার বাসায় পুলিশ হানা দিয়ে তার পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধার সৃষ্টি করেছে বলেও বিবৃতিতে অভিযোগ আনা হয়।
বিবৃতিতে জামায়াত নেতা ডা. শফিকুর আরও বলেন, আইনজীবীদের ওপর এ ধরনের হয়রানি প্রকারান্তরে বিচার কার্যে বাধা প্রদান করার শামিল। ইতিপূর্বে ডিফেন্স টিমের আইনজীবীদের চেম্বার ও বাসায় হয়রানির প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে এর প্রতিকারের জন্য ডিফেন্স টিমের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছিল।
ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল ডিফেন্স টিমের আইনজীবীদেরকে হয়রানি বা গ্রেফতার না করার নির্দেশনা দিয়ে আদেশ জারি করেন। সে আদেশ এখনও বলবৎ রয়েছে বলেও বিবৃতিতে জানান ডা. শফিক।
তিনি আরও বলেন, মহামান্য আপীল বিভাগে মামলার শুনানির পূর্বমুহূর্তে আইনজীবীদের বাসায় হানা দেয়া ও গাড়ি থেকে অপহরণ করার মাধ্যমে সরকার আইনী সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে চরম প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে। ‘আইনজীবীগণ অফিসার অব দি কোর্ট। তাদেরকে হয়রানি করে সরকার বিচার কার্যে প্রকারান্তরে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে।"
তিনি বলেন, আমরা সরকারের এ ন্যাক্কারজনক ভূমিকার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সাথে এ মুহূর্তে হয়রানি বন্ধ করে আইনজীবীদেরকে পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে জামায়াতের আইনজীবী শিশির মনির তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন থেকে এক ক্ষুদে বার্তায় বাসা তল্লাশীর দাবি করেন। তবে এসএমএস পাওয়ার পর তার ব্যক্তিগত সেই নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
ক্ষুদে বার্তায় তিনি জানান, ‘আমার বাসায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের পরিচয়ে কয়েকজন এসেছেন। তিনি নিজের বাসার ঠিকানা দিয়েছেন রোড নং ৫, ২৩৮ নং বাসা মোহাম্মদপুর হাউজিং সোসাইটি (শিয়া মসজিদের পরে)। ক্ষুদে বার্তায় তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য গণমাধ্যমকে অনুরোধ জানিয়েছেন।
এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) জামাল উদ্দিন মীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি। টাইমনিউজবিডিকে তিনি বলেন, আমার থানা ওখানে কোন তল্লাশি চালায়নি। এব্যাপারে সঠিক খোঁজ নিয়ে জানাতে পারবো।
পরে তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার(ডিসি)বিপ্লব সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ল ইনফোর্সম্যান এজেন্সি বলতে র্যাবকেও বোঝাতে পারে।’
তবে সত্যিকার অর্থে ডিবি পুলিশ, থানা পুলিশ কিংবা র্যাব সদস্যরা তার বাসায় গেছেন কিনা, আদৌ তল্লাশি চালানো হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে পারেননি উপ-কমিশনার বিপ্লব। বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।
এব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের উপ-কমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম টাইমনিউজবিডিকে জানান, ‘এ বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই। এখন পর্যন্ত আমার কাছে এমন কোন খবর নেই।’
কেবি





