সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আদালতের নিয়মিত বিচার কাজ বর্জনের ডাকে সোমবার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছেন বিএনপি জোট ও আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা না করার অনুরোধ জানাতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা হাইকোর্টের বিভিন্ন বেঞ্চে যান। এতে বেশ কয়েকটি বেঞ্চ অল্প কয়েকটি মামলা পরিচালনার পর এজলাস থেকে নেমে যান।

তবে সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির এ সিদ্ধান্তকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে বার ভবনের দ্বিতীয়তলায় সমিতির সভাপতির কক্ষের সামনে বিক্ষোভ করেছেন সরকার সমর্থক আইনজীবীরা।

এ বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক আব্দুল মতিন খসরু, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এবং সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক মো. মমতাজ উদ্দিন মেহেদী।

আইনজীবীদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের বিষয়ে সুপ্রীম কোর্ট বারের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম মেহেদি সাংবাদিকদের বলেন, রবিবার আমরা সমিতির পক্ষ থেকে আদালত বর্জনের বিষয়ে রেজুলেশন পাস করেছি। তার অংশ হিসেবে আজ (সোমবার) আমরা কোর্টে গিয়েছি। বিচারকদের আমাদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছি। তারা আমাদের রেজুলেশন গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন এ ব্যাপারে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।

তিনি বলেন, আমরা আদালতকে বলেছি, হরতালের জন্য আইনজীবীরা আসতে পারেন না। তাই বিচারক, আইনজীবী ও বিচার প্রার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা কোর্ট না চালানোর অনুরোধ করেছি।

অপরদিকে আইনজীবী সমিতির এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু বলেন, ‘তারা যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছে, তা ক্ষমার অযোগ্য। তারা বিচারকদের রুমে রুমে গিয়ে তাদের নেমে যাওয়ার জন্য বলেছে। বিচারপ্রার্থী মানুষকে বিচার থেকে বঞ্চিত করার এখতিয়ার কারো নেই। এর মাধ্যমে তারা আদালত অবমাননা করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, বেগম জিয়ার দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতি যে প্রয়াস চালাচ্ছে তা অবৈধ, অসাংবিধানিক, বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ।’

আওয়ামীপন্থী আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক মো. মমতাজ উদ্দিন মেহেদী বলেন, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় আমরা সভাপতির রুমের সামনে একত্রিত হব। বার যদি এই অবৈধ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করে তাহলে সভাপতি ও সম্পাদকের কক্ষে তালা লাগিয়ে দেওয়া হবে।

জেএ