জামিন পেলেও আপাতত দেশ ছাড়তে পারছেন না হলি আর্টিজানে হামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার হওয়া তাহমিদ হাসিব খান। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব টরেন্টোর ছাত্র তাহমিদের পাসপোর্টটি এরই মধ্যে পুলিশ জব্দ করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে শর্ত দেয়া হয়েছে, ‘ডাকলেই আসতে হবে’। একই সঙ্গে তাকে সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যেও রাখা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের ইন্সপেক্টর হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘সন্দেহজনভাবে তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার থেকে আপাতত মুক্তি দেয়া হলেও মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। এটি তিনি কি কারণে করেছেন সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি যদি উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটি করেন তবে তাকে ফের আইনের আওতায় নেয়া হবে।’
এদিকে গত রোববার জামিনে মুক্তি পেলেও বাসায় ফেরেননি আলোচিত ব্যবসায়ী ও আফতাব বহুমুখী ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে রহিম খান শাহরিয়ারের ছেলে তাহমিদ হাসিব খান। ভাটারার একটি আবাসিক এলাকায় ১১ নম্বর রোডে ‘কাশফুল’ নামে একটি বহুতল ভবনে থাকেন ব্যবসায়ী ফজলে রহিম খান শাহরিয়ার। দুই ভাইয়ের ছোট তাহমিদ গত ১ জুলাই কানাডা থেকে এসে ওই বাসায় ওঠেন। ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে হলি আর্টিজানে যান। এর পরের ঘটনা সকলের জানা।
শনিবার আফতাব বহুমুখী ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে রহিম খান শাহরিয়ারের বাসায় গিয়ে তাহমিদ হাসিব খানের সন্ধান পাওয়া যায়নি। ওই বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী আলমগীর জানান, জামিনে মুক্তি পাওয়ার খবর তিনি শুনেছেন। তবে জামিন পাওয়ার পর এ বাসায় তিনি আসেননি। স্যার ও ম্যাডাম (ফজলে রহিম খান ও তার স্ত্রী) আইনজীবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাইরে গেছেন।
আলমগীর বলেন, এর বেশি তিনি আর কিছু জানেন না। কয়েক ঘণ্টা ওই বাসার সামনে অপেক্ষা করেও ফজলে রহিম খান শাহরিয়ার কিংবা তার ছেলে তাহমদ হাসিব খানকে পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই রাতে রাজধানীর কূটনৈতিক জোন গুলশানের ২ নম্বর সার্কেলের ৭৯ নম্বর সড়কে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে দুই পুলিশ সদস্য, ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জন নিহত হন। পরে সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত কমান্ডো অভিযানে ছয় জঙ্গি নিহত হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
ওই অভিযানে জীবিত উদ্ধার করা হয় তিন বিদেশী নাগরিকসহ মোট ৩১ জনকে। এর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব টরেন্টোর ছাত্র তাহমিদ হাসিব খান ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত রেজাউল করিমের গতিবিধি তদন্ত সংস্থাকে সন্দেহ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে পরের দিন কমান্ডো অভিযানে নিহত জঙ্গি রোহান ইমতিয়াজের সঙ্গে হাসনাত করিম ও অস্ত্র হাতে তাহমিদের ছবি প্রকাশ হলে আলোচনার ঝড় ওঠে।
কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেছেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে ওই ঘটনায় তাহমিদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তবে তিনি এখনো সন্দেহের বাইরে নন। আপাতত তাকে ৫৪ ধারা থেকে মুক্তি দলেও মিথ্যা তথ্য দেয়ার বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, জামিন পেলেও তার পাসপোর্ট আমাদের কাছে রয়েছে। ফলে চাইলেও সে দেশের বাইরে যেতে পারছে না।’
এমবিএইচ





