রাজধানীর মধ্যবাড্ডায় ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা মূলত ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করেই সংগঠিত হয়েছিলো বলে দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
ট্রিপল মার্ডারের দুই আসামীকে গ্রেফতারের ব্যাপারে সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন, মূল পরিকল্পনাকারী বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ফারুক মিলন এবং ওই এলাকার ছাত্রলীগ নেতা নুর মোহাম্মদ।
রোববার দিবাগত রাতে রাজধানীর ভাটারা এবং বাড্ডা থানা এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি বলেন, মধ্যবাড্ডার ওই হত্যাকাণ্ডটি মূলত ঝুট ব্যবসার টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করেই সংগঠিত হয়েছিলো।
তবে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা কারি ছিলেন বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মো. ফারুক মিলন। সে বাড্ডা এলাকার স্থায়ি বাসিন্দা।
কবে থেকে পরিকল্পনা করে সে ব্যাপারে মনিরুল ইসলাম বলেন, তারা সাত থেকে আট দিন আগে থেকে এ পরিকল্পনা করে।
তবে ঘটনা ঘটার কিছুক্ষণ পূর্বেও তারা গোপনে আরও একবার মিলিত হয়ে পরিকল্পনার ছক আঁকে।
হত্যাকাণ্ডে কতজন অংশ নিয়েছিলেন এ ব্যাপারে যুগ্ম কমিশনার বলেন, গামাই ছিলো এদের মূল লক্ষ বস্তু এবং এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি আটজন অংশ নেয়।
তবে তারা সবাই অস্ত্র চালায়নি। তাদের মধ্যে মাত্র তিনটি অস্ত্র চালানো হয়েছিল। আমরা ওই আটজনের নাম পরিচয় পেয়েছি খুব শিঘ্রই তাদের গ্রেফতার করতে পারবো বলে আশা করছি।
গ্রেফতারকৃতদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা সম্পর্কে তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত দু’জনই আওয়ামী লীগের সাথে সরাসরি জড়িত। মো. ফারুক মিলন বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এবং নূর মোহাম্মাদ একই দলের ছাত্র সংগঠনের নেতা।
তবে এই হত্যাকাণ্ড কোন রাজনৈতিক করণে সংগঠিত হয়নি বলে ধারণা করছেন যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
বাউল সুমন নামে অপর এক ঝুট ব্যবসায়ী এর আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মনিরুল ইসলাম বলেন, আগে বাউল সুমন নামে এক ব্যক্তি এই ঝুট ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ করতো।
তার সহযোগী ছিলেন হত্যার মূল টার্গেটে থাকা গামা। পরে অসুস্ততার কারনে বাউল সুমন মারা যায়। ফলে পরবর্তিতে গামা দীর্ঘ দিন ধরে এই ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ করছিল।
তিনি বলেন, এক পর্যায়ে বাউল সুমনের লোকজন গামার কাছে এই ব্যবসার লভ্যাংশ দাবি করে। কিন্তু গামা তাতে অসম্মতি প্রদান করে। আর এই সূত্র ধরেই মূলত হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মধ্যবাড্ডার আদর্শনগর পানির পাম্পে বসে আলোচনার সময় গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান গামা ও তার সঙ্গে থাকা ৬ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শামসু মোল্লা, স্থানীয় ক্লিনিকের ম্যানেজার ফিরোজ আহমেদ মানিক মারা যান।
এতে আহত হন যুবলীগ নেতা আবদুস সালাম। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এমআর/এসএইচ





