কুষ্টিয়ায় আশঙ্কাজনক ভাবে বেড়েই চলেছে শিশু হত্যাকান্ড। লোভ-লালসা, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, পরকীয়াসহ নানা কারণে খুন করা হচ্ছে শিশুদের। অপরাধীতো বটেই বাবা-মায়ের হাত থেকেও রেহায় পাচ্ছে না শিশুরা।

গত ৫ বছরে কুষ্টিয়ায় ৩৯ শিশু খুনের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ চলতি বছরের গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া শহরে ছয় মাস বয়সী অজ্ঞাত এক শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শহরে চৌড়হাসে মতিমিয়া রেলগেটের পাশ থেকে অজ্ঞাত ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ অঞ্চলে শিশুহত্যার ঘটনা নতুন নয়। প্রতি নিয়তই ঘটছে শিশুর প্রতি সহিংশ মুলক ঘটনা। এর আগে মানবতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ২০১৪ সালের ১০মে কুষ্টিয়ার খোকসায় আফসানা খাতুন নামে এক বছরের এক শিশুকে কোমলপানীয়র সাথে বিষ খাইয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে তার মা।

এর আগে ২০১২ সালের ৭ জানুয়ারি কুষ্টিয়া শহরে ছয় বছরের এক মেয়েকে গলাটিপে হত্যা করে তার পাষন্ড পিতা।

তবে সবকিছু ছাপিয়ে যায় ২০১২ সালের একটি ঘটনা। ওই বছরের ১৮ আগস্ট কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় আব্দুল মালেক নামে এক ব্যক্তি তার দুই সন্তানকে পদ্মা নদীতে ফেলে দিয়ে হত্যা করে। মুন্নি (১০) ও মানসুর (৫) নামে তার ওই দুই সন্তানকে চুল কাটাতে নিয়ে যাবার কথা বলে পদ্মা নদীতে ফেলে দিয়ে হত্যা করে। সুত্র জানায়, কুষ্টিয়ায় ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১জন, ২০১৫ সালে ৮ শিশু, ২০১৪ সালের ৬, ২০১৩ সালে ১৫ এবং ২০১২ সালের ৯ শিশু খুন হয়।

তথ্যমতে, ২০১৫ সালের ২ মার্চ কুষ্টিয়ায় ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে ইমরান নাজির (১৬) নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী খুন হয়। ইমরান জগতির রমজান খান হিটুর  ছেলে। শহরতলীর জগতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

১৭ মার্চ কুষ্টিয়ার খোকসায় আজ্ঞাত এক নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। উপজেলার ধোকড়াকোল মকলুর চর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া শহরের চরকুঠি পাড়ায় হুসাইন (৭) নামে এক এতিম শিশুকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। গড়াই নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত হুসাইন চরকুঠি পাড়ার মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।

১৫ মে কুষ্টিয়ার মিরপুরে সেলিনা খাতুন (১৪) নামে এক কিশোরী গৃহবধু ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সে উপজেলা আমবাড়ীয়া ইউনিনের নগরবাঁকা গ্রামের সাইদুল ইসলামের স্ত্রী। ২৩ মে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হিসনা নদী থেকে সাইফ আলী (৮) নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

উপজেলার হোসেনাবাদ আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরির পেছনে হিসনা নদী থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত সাইফ আলী উপজেলার সিদ্দিক ব্যাপরীর ছেলে। ২৬ জুলাই কুষ্টিয়ার মিরপুরে নিশান আলী (১৪) নামে এক কিশোরকে হত্যা করে ভ্যান ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।

মিরপুর পৌর সভার ভাঙাবটতলার শোলা বিলের মাঠের জিকে ক্যানালের পাশ থেকে তার জবাই করা মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত  নিশান পোড়াদহের এনাম আলীর ছেলে। ৫ অক্টোবর কুষ্টিয়ার গড়াই নদী থেকে ভাসমান এক কিশোরীর (১৪) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

শহরের মঙ্গলবাড়িয়া এলাকার গড়াই নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ৫ ডিসেম্বর কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ঈশিতা (৭) নামে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। উপজেলার যদুবয়রা চর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। সে উত্তর যদুবয়রা গ্রামের বাসিন্দা আনসার ও ভিডিপি ব্যাটালিয়নে চাকরিরত ইশারত আলীর মেয়ে।

২০১৪ সালের ২৫ জানুয়ারী কুষ্টিয়ার খোকসায় গাছের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় রুনা আক্তার (১১) নামে এক স্কুল ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। উপজেলার শমসপুর ইউনিয়নের পদ্মবিলা গ্রাম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। রুনা উপজেলার শমসপুর ইউনিয়নের পদ্মবিলা গ্রামের রাজু মন্ডলের মেয়ে। ২৫ ফেব্রুয়ারী কুষ্টিয়ার কুমারখালীর যদুবয়রা ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রাম থেকে আজমি (৬) নামে এক স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

আজমি স্থানীয় কেশবপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্র। ২৯ মার্চ কুষ্টিয়ায় অর্পা রানী পাল (৮) নামের এক শিশুকে ধর্ষনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত অর্পা রানী শহীদ বীরপ্রতীক দিদার কিন্ডার গার্ডেনের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী।

২০ এপ্রিল কুষ্টিয়ার মিরপুরে তামান্না খাতুন তমা (১৪) নামে এক নবম শ্রেনীর স্কুলছাত্রীকে হত্যা করে ঘরের ডাবের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠে। নিহত তমা মিরপুর পৌরসভার যোগিপুল মহল্লার পুলকের ছোট মেয়ে।

১০ মে একইদিন কুষ্টিয়ার খোকসায় সৎ মা কোমলপানীয়র সাথে বিষ খাইয়ে আফসানা খাতুন নামে (১) বছরের এক শিশুকে হত্যা করে। সে উপজেলার নিশ্চিমন্তবাড়িয়া গ্রামের আসাদ মুন্সীর মেয়ে।

২ ডিসেম্বর কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সেফটি ট্যাংক থেকে উজ্বল (১৪) নামে এক স্কুল ছাত্রের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের ছাতারপাড়া হৃদয়পুর গ্রামের হবিবর রহমান মেম্বরের বাড়ির পায়খানার সেফটি ট্যাংক থেকে ওই স্কুল ছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত উজ্বল একই ইউনিয়নের গাছিরদাইড় গ্রামের মুকুল হোসেনের ছেলে।

২০১৩ সালে জেলায় সব থেকে বেশি শিশু খুনের ঘটনা ঘটে। ওই বছরে ১৫ শিশু খুন হয়। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১৩  সালের ২৫ জানুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে (১২) বছরের এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের ইউসুফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রীর মৃত লাশ উদ্ধার করা হয় একটি ইট ভাটার পুকুর থেকে।

নিহত ছাত্রী দিঘলকান্দি গ্রামের হাসেম আলীর কন্যা। ১ ফেব্রুয়ারী কুষ্টিয়ার খোকসায় লিংকন (১২) নামে  এক স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। খোকসা উপজেলার পূর্ববেতবাড়িয়া বিল এলাকা থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। লিংকন খোকসার পূর্ব বেতবাড়িয়া গ্রামের আজাদ শেখের ছেলে এবং খোকসার ঈশ্বরদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র।

২১ ফেব্রুয়ারী কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে উর্মি (১০) নামে স্কুল ছাত্রীর লাশ  উদ্ধার করে পুলিশ। উপজেলার খলিষাকুন্ডি গ্রাম থেকে তার লাশ  উদ্ধার করা হয়।

২৪ ফেব্রুয়ারী কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জেমি (১০) নামের ৩য় শ্রেনীর এক স্কুল ছাত্রীর লাশ  উদ্ধার করে পুলিশ। উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন গোপীনাথ পুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ওই স্কুল ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ৯ মার্চ দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউপি’র বৈরাগীরচর গ্রাম থেকে একতার  আলী (১৬) নামে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সে ওই গ্রামের মুক্তার আলীর ছেলে।

১২ মার্চ কুষ্টিয়ায় তানিয়া রহমান মৌ (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া যায়। শহরের জিকেঘাট এলাকা থেকে মৌর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৌ জিকেঘাট এলাকার মাছ ব্যবসায়ী মজিবর রহমানের মেয়ে। সে জিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবসা শিক্ষা বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

২২ মে কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার মজমপুর ইউপি’র নছিমন মোড় এলাকায় পলি খাতুন (১৪) নামে এক নববধূকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠে। সদর উপজেলার মজমপুর ইউনিয়নের নছিমন মোড় সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সে ওই এলাকার মতিয়ারের স্ত্রী। ২৬ মে মিরপুরে অজ্ঞাত নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মিরপুর পৌর সভার  ৯নং ওয়ার্ড খন্দকবাড়ীয়া তহশীল অফিসের পাশের এক ঝোপের মধ্য থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

২৭ মে একই দিন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের ভূট্টাক্ষেত থেকে আজাদ (১১) নামে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। দুর্গাপুর গ্রামের রেললাইনের পার্শ্ববর্তী ভূট্টাক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।

নিহত আজাদ ওই গ্রামের দুলাল হোসেনের পুত্র। ১ জুলাই কুষ্টিয়ায় আরিশা খাতুন (৭) নামের এক শিশু কণ্যাকে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে তার পাষন্ড মা। কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়ার মীর মোশাররফ হোসেন সড়কের ভাড়া বাড়ীর তিন তলায় একটি কক্ষ নিহত শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হরে।

২২ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পিতার থাপ্পড়ে ৩য় শ্রেনীতে পড়–য়া সিদাম হলদার (১০) নামের এক স্কুল ছাত্রের মৃত্যু হয়। সে ভেড়ামারা উপজেলার কাঠেরপুল এলাকার ভোলানাথ হলদারের ছেলে এবং ভেড়ামারা সাতবাড়ীয়া মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র।

২৫ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বারখাদা ইউনিয়নের ত্রিমোহনি এলাকায় অপহরণের তিন দিন পর  অনিকের (৪) মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত অনিক কুষ্টিয়া ভেড়ামারা উপজেলার চর গোলাপনগর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে।

১১ নভেম্বর কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সাদ্দাম হোসেন নামে (৮) এক শিশুকে তার বন্ধুরা কুপিয়ে হত্যা করে। উপজেলার শিলাইদাহ ইউনিয়নের কসবা গ্রামের খেলার মাঠে এ ঘটনা ঘটে। সাদ্দাম একই গ্রামের ওসমান আলীর ছেলে।

১৫ নভেম্বর কুষ্টিয়ার খোকসায় মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আশা (১৩) নামের এক স্কুল ছাত্র নিহত হয়। সে উপজেলার কালিবাড়িপাড়া গ্রামের হাকিমের ছেলে।

৩১ ডিসেম্বর কুষ্টিয়ায় রাকিবুল ইসলাম (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। সদর উপজেলার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার শিবপুর কবরস্থানের কাছে হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত রাকিবুল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের বেল বাড়াদি গ্রামের দুবাই প্রবাসী রিয়াজুল হকের ছেলে।

২০১২ সালের ৭ জানুয়ারি কুষ্টিয়া শহরে ছয় বছরের মেয়েকে গলাটিপে হত্যা করে এক পাষন্ড পিতা একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মকর্তা আহকামুল আলম। ১২ জানুয়ারি কুষ্টিয়া শহরের চর থানাপাড়া এলাকায় বরাত আলী নামে আড়াই বছরের একটি শিশুকে কুপিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ১৬ মার্চ  শহরের আমলাপাড়া এলাকায় শোবার ঘরে প্রবেশ করে নবম শ্রেণীর ছাত্র ইরফান আহমেদ সানিমকে (১৪) কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

১৭ মার্চ কুষ্টিয়ায় লাকী খাতুন (১৫) নামের এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ৭ মে কুষ্টিয়ায় তমালি খাতুন পুটি (১৬) নামে এক গৃহকর্মীকে  নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ উঠে। শহরের কালিশংকপুরে ঠিকাদার আবু বক্কর সিদ্দিকের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। তমালি সদর উপজেলার খাজানগরের জাফরুলের কন্যা।

৩ জুলাই একই দিনে কুষ্টিয়ার মিরপুরে সদ্য ভুমিষ্ট হাওয়া এক নব জাতকের মৃত দেহ উদ্ধার করে মিরপুর থানা পুরিশ। মিরপুর পৌর সভার ওয়াপদা সংলগ্ন জিকে কেনেলের মধ্য থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়। ১৮ আগস্ট কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বারদাগ গ্রামের বাসিন্দা আবদুল মালেক দুই সন্তানকে পদ্মায় ফেলে দিয়ে হত্যা করে। বাবার সঙ্গে চুল কাটাতে গেল দুই সন্তান মুন্নি (১০) ও মানসুর (৫) কে নিজ হাতে সেতু থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করে।

৪ অক্টোবর কুষ্টিয়ার মিরপুরে এক নবজাতকের মৃত দেহ উদ্ধার করে পুরিশ। মিরপুর পৌর সভার ওয়াপদা সংলগ্ন জিকে কেনেলের মধ্য থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়। ৪ নভেম্বর কুষ্টিয়ার লাহেনী নামক স্থানে অজ্ঞাতপরিচয় (৭) এক শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

কুষ্টিয়ার নুরুজ্জামান বিশ্বাস ডিগ্রি কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক রোজিনা খাতুন বলেন, শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা হঠাৎ করে বেড়েছে।

লোভ-লালসা, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, পরকীয়াসহ নানা কারণে শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সুশাসনের অভাব ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় এমন অপরাধ সংঘটনের একটি বড় কারণ। সরকার দ্রুত এসব ঘটনার প্রকৃতি ও পুনরাবৃত্তিকে বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যমান সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহন করলে এসব অপরাধ কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্র বিজ্ঞানের অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেন, বিভিন্ন কারণে শিশুরা টার্গেটে পরিণত হচ্ছে। অনেকে আগ্রাসী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ চরমভাবে প্রকাশ করছে। আকাশ সংস্কৃতির কুপ্রভাব অনেকের মধ্যে নেতিবাচক ভাবে পড়ছে। এ ছাড়া সামাজিক কাঠামোর মধ্যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ঢুকে পড়েছে। তাই শিশুদের হত্যা করেও অনেকে পার পেয়ে যাচ্ছে। এখনো শিশু ও নারীদের দুর্বল ভেবে তাদের বেশি নির্যাতন করা হচ্ছে।

এসটি