একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের সাথে সদস্য বিচারপতি নিয়োগ হচ্ছে। সদস্য বিচারপতি হচ্ছেন ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন মাহমুদ। চলতি সপ্তাহেই এ নিয়োগ দেয়া হতে পারে।
সদস্য বিচারপতি হিসাবে রেজিট্রারকে নিয়োগ দেয়ার জন্যে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল থেকে সুপারিশ করা হয়েছে বলে একটি দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অফিস সুত্র জানায়, বিচারপতি জাহাঙ্গির হোসেনকে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান করা হলে সদস্য পদটি শূণ্য হবে। ওই পদে নিয়োগ পাবেন ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার জেলা বিচারক মো.নাসির উদ্দিন মাহমুদ।
স্কাইপি কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল-১ এর প্রথম চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। পরে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরকে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় সরকার।
বিচারপতি ফজলে কবীর ট্রাইব্যুনাল-১ এ যোগ দিলে ট্রাইব্যুনাল-২ এর জ্যেষ্ঠ সদস্য বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়া হয়। আর ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার বিচারপতি শাহিনুর ইসলামকে সদস্য বিচারপতি নিয়োগ কার হয়।
এবারও একই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল একটি সুত্র।
গত বছরের ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের বয়স সীমা ৬৭ বছর পূর্ণ হলে তিনি অবসরে যান।
সূত্র জানায়, সরকারের পক্ষ থেকে বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরকে চেয়ারম্যান পদে পূনর্নিয়োগ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু তিনি প্রস্তাবে রাজি না হয়ে অবসর গ্রহণ করেন। সরকার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরকে আইন কমিশনের সদস্য নিয়োগ করে।
নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক টাইম নিউজকে বলেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান এবং সদস্য বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হবে।
কারা নিয়োগ পাচ্ছেন তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
অপরদিকে তিন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান না থাকায় দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে ট্রাইব্যুনাল-১ এর সব ধরণের বিচারিক কার্যক্রম।
এ ট্রাইব্যুনালে গত বছরের ২০ নভেম্বর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মামলায় কার্যক্রম শেষ হলেও রায় দেয়া সম্ভব হয়নি।
এছাড়া জামায়াত নেতা এটিএম আজাহারুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুস সোবাহান, বিএনপি নেতা জাহিদ হোসেন খোকন ও আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেনের মামলা এ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে। দীর্ঘদিন এ মামলাগুলোর শুনানি হয়নি।
এদিকে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান নিয়োগের সাথে সাথেই জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর রায় ঘোষণার সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন আইনজীবীরা।
আইনজীবীরা এক্ষেত্রে একই ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ২০১২ সালের ৬ ডিসেম্বর সাঈদীর মামলার কার্যক্রম শেষে রায়ের জন্যে অপেক্ষমান রেখেছিলেন বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বাধীন প্রথম ট্রাইব্যুনাল।
তারা বলেন, স্কাইপি সংলাপ প্রকাশের জেরে বিচারপতি নিজামুল হক পদত্যাগ করলে ১৩ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পরে বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনাল সাঈদীর  মামলায় আবারও  উভয় পক্ষকে যুক্তি উপস্থাপনের নির্দেশ দেন।
নিজামীর মামলায়ও পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনাল থেকে একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের আইন অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের কাঠামোগত পরিবর্তন হলেও কোনো মামলা পুরাতন কাঠামোয় চলবে।এক্ষেত্রে মামলাটি সর্বশেষ যে অবস্থায় ছিল, নতুন কাঠামোতে সেই অবস্থায় চলতে কোনো বাধা থাকবে না।
[b]ঢাকা, জিই,১২ ফেব্রুয়ারি(টাইমনিউজবিডি.কম)//এএইচ[/b]