সিটি এসবি'র দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিআইজি (প্রটেকশন) রফিকুল ইসলাম বাবুলকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার দুদকের উপ-পরিচালক হামিদুল হাসান তাকে এ তলবি নোটিশপাঠিয়েছেন।পুলিশ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বাবুলের স্থায়ী ঠিকানা-গাজীপুর জেলাধীন কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নস্থ খিলপাড়া গ্রাম এবং ঢাকার ঠিকানায় তলবি নোটিশপাঠানো হয়। নোটিশে তাকে আগামী ২১ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় দুদকেহাজির হতে বলা হয়েছে।
জানা যায়,ডিআইজি রফিকুল ইসলাম বাবুলের বিরুদ্ধে প্রায় শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ রয়েছে দুদকে।এ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধানের স্বার্থে তাকে তলব করা হয়।
জানা যায়,পুলিশ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম (বাবুল) পদ-পদবি ব্যবহার করে অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হন। পিতা মরহুম হাতেম আলী মোল্লা ছিলেন গ্রাম্য ডাক্তার। রফিকুল ইসলাম ১৯৮৬ সালে চাকরিতে ঢোকার সময় গ্রামের বাড়িতে ছিলো সাধারণ একটি টিনের ঘর। পরে কালিয়াকৈর ফুলবাড়িয়া বাজারে সরকারি খাস জমিতে একটি টিনসেড বাড়ি করেন রফিক। চাকরির কয়েকবছরের মধ্যেই তিনি যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পান। পদ-পদবি ব্যবহার করে দু.হাতে কামাতে থাকেন অর্থ। কম করেও এখন তিনি শত কোটি টাকার মালিক।
জানা যায়,রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে ৩টি বাড়ি, যার আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি টাকা। উত্তরায় দেড় কোটি টাকা মূল্যে একটি বাড়ি কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছেন। বাবুল ও তার পরিবার সদস্যরা দুটি দামী গাড়ি ব্যবহার করেন, যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি টাকা।
ডিআইজি রফিকুল ইসলাম বাবুলের মালিকানায় কালিয়াকৈরের নাবিবহর মৌজায় রয়েছে ৮০/৮৭৭, ৮৭৮,৮৭৯,৮৮১,৮৮৩ নম্বর দাগে ৭৪ শতাংশ জমি। যার আনুমানিক মূল্য ৩২ লক্ষ টাকা। মুথাজুড়ি মৌজার ছলংগায় রয়েছে ১২ বিঘা জমি। মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। একই মৌজায় ২৬৯৩,৮৮৪৪ নম্বর দাগে ২৪ শতাংশ জমি। যার মূল্য ৩৬ লাখ টাকা। কড়ই চালায় ২০ বিঘা জমি, মূল্য ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
আরো জানা যায়, ফুলবাড়িয়া বাজার সংলগ্ন ২০৯৮ নম্বর দাগে ১৪০ শতাংশ জমি। মূল্য- ১কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। ফুলবাড়িয়া উত্তর পাড়ায় রয়েছে ২৪ শতাংশ জমি । যার মূল্য ৩৬ লক্ষ টাকা। মুথাজুড়ি বাজার সংলগ্ন ২১২১ নম্বর দাগে ১০০ শতাংশ। যার মূল্য প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা। একই মৌজার ২৪৭৩ নম্বর দাগে ১৭৫ শতাংশ জমি। মূল্য প্রায় ১ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা। ২২৪২ নম্বর দাগে রয়েছে ১৪২ শতাংশ জমি, মূল্য- ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা।
তার স্ত্রী শিরীন আক্তারের নামে মুথাজুড়ি মৌজার ৩০০৩, ৩০০৪,৩০১১ ও ৩০১২ নম্বর দাগে ফুলবাড়িয়া দক্ষিণ পাড়ায় (কসাইর চালা) রয়েছে ৮ বিঘা জমি। যার আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি টাকা। এর ছাড়াও নামে-বেনামে বিপুল নগদ অর্থ রয়েছে। বিদেশ অন্তত ২০ কোটি টাকা পাচার করেছেন বলেও জানা গেছে।
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট মৌজার ভূমি অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে জমির হালনাগাদ তথ্য চেয়েছে দুদক।
জমির বর্তমান অবস্থা, প্রকৃত মূল্য, দলিলে উল্লেখিত মুল্য, পরিশোধিত নিবন্ধন ফি ইত্যাদি তথ্য সম্বলিত রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে।
একে,





