ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন করে দিয়ে ৩০ লাখ টাকারও বেশি সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে করা পাঁচ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এক সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ঢাকার কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া কার্যালয় থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ওই সরকারি কর্মকর্তার নাম আবু আশরাফ সিদ্দিকী। তিনি বিআরটিএর ইকুরিয়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক।

দুদকের সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল গ্রেপ্তারের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুদকের দুই উপপরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম ও এস এম রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ওই সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সূত্র জানায়, ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর কক্সবাজার বিআরটিএর সহকারী পরিচালক আবু আশরাফ সিদ্দিকীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা করে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়। মামলার অপর পাঁচজন আসামি হলেন পাঁচটি গাড়ির (ট্রাক) মালিক হারুন অর রশিদ বাহাদুর, নুরুল ইসলাম, ফয়েজ আহমেদ, শাহাজাহান খান ও নাসিরউদ্দিন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সোনালী ব্যাংকের কক্সবাজার কাস্টমস হাউস শাখায় গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের জন্য ৩০ লাখ ১৪ হাজার ৩৮০ টাকা শুল্ক জমা দিয়েছেন—এমন মিথ্যা তথ্য বিআরটিএকে জানান গাড়ির মালিকেরা আসামিরা।

এর আগে তাঁরা বিআরটিএর সহকারী পরিচালক আবু আশরাফ সিদ্দিকির সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করে নেন। আসামিরা ৫টি গাড়ির ভুয়া কাগজপত্র (ব্যাংকের ঋণপত্র এলসি, শিপিং ডকুমেন্ট, বিল অব এন্ট্রি) বিআরটিএতে জমা দেন।

এর মাধ্যমে সরকারের ৩০ লাখ ১৪ হাজার ৩৮০ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে ধরা পড়ে। অভিযোগটি অনুসন্ধান করেন বিভাগীয় কমিশনের উপসহকারী পরিচালক আবদুল আজিজ।

পরে মামলাগুলো তদন্তের জন্য প্রধান কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। দায়িত্ব দেওয়া হয় উপসহকারী পরিচালক মো. তাজুল ইসলামকে।

তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের জুন মাসে তিনটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেন তিনি। ওই তিনটি মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমোদন দেয় দুদক। পরে ৩ জুলাই বাকি দুটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম। মামলার প্রধান আসামি আবু আশরাফ সিদ্দিকী কমিশনে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ চেয়ে আবেদন করেন। কমিশন তাঁর আবেদন আমলে নিয়ে ২২জুলাই তাঁর বক্তব্য শোনেন। এরপর মামলাগুলো অধিকতর তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়ে উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারিকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারিও তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের সুপারিশ করেন। কমিশন সে সুপারিশও গ্রহণ করেনি। এরপর আরেক উপপরিচালক মির্জা জাহিদুল আলমকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়।

ওএফ