নারায়ণগঞ্জে ৭ জনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করা হয়েছে। আগামী ১০ ডিসেম্বর এ বিষয়ে আদেশ দেবে আদালত।

বিচারপতি মোঃ রেজাউল হক ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার আদেশের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

এছাড়া মামলার তদন্ত থেকে সিআইডিকে বাদ দিতে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন খারিজের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে করা আবেদনের বিষয়ে আদেশের কপিও আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এর আগে, তদন্ত কমিটি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে এই চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তারপর তা আদালতে দাখিল করা হয়।

ইতিপূর্বে এ ঘটনায় আরও তিনবার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করেছে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি।

গত ৫ মে নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় র‌্যাবের কোনো সাবেক বা বর্তমান সদস্যের সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট অ্যাডভোকেট শামিম সরদার আদালতের নজরে আনলে স্বপ্রণোদিত হয়ে বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হক ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে আইনমন্ত্রণালয়ের দুইজন, স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুইজন এবং জনপ্রসাশন মন্ত্রণালয়ের দুইজনসহ মোট সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় আদালত।

এ ঘটনায় সরকারী কোনো কর্মকর্তা জড়িত আছে কিনা তার সার্বিক তদন্ত করে আগামী সাত দিনের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে তদন্ত কমিটিকে বলা হয়েছিল।

আদালত আদেশে আরো বলেন, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় র‌্যাব কোন তদন্ত করতে পারবে না। এছাড়া ডিবির পাশাপাশি সিআইডিকেও মামলার তদন্ত করতে বলা হয়েছে।

র‌্যাবের বিরুদ্ধে আসা ‘ছয় কোটি টাকা নিয়ে হত্যাকান্ড’ করাসহ এ ঘটনায় র‌্যাবের কোন সদস্যের সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা তদন্ত করতে র‌্যাবের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী শামিম সরদার।

একই সঙ্গে এ মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জেএ