কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মানহানির একটি মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর জন্য ঢাকার সিএমএম আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

আজ (বুধবার) ঢাকা মহানগর হাকিম নুর নবীর আদালতে এ আবেদন করেন এই মামলার বাদী এবি সিদ্দিকী।

আবেদনে তিনি বলেন, এ মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। আর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি কারাগারে আছেন। তাই তাকে মানহানির এই মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হোক। শুনানি শেষে আদালত এ বিষয়ে পরে আদেশ দেবেন বলে জানান।

বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকাকে অবমাননা এবং মুক্তিযুদ্ধকে কলঙ্কিত করার অভিযোগে ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে এই মানহানির মামলাটি দায়ের করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি  সিদ্দিকী।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বকশিবাজারের আলীয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত ৫নং বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছর এবং তারেক রহমান’সহ বাকি ৫ আসামিদের ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করে আদালত।

রায়ের পরপরই খালেদা জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। নির্জন কারাগারের একমাত্র বন্দি হিসেবে তিনি সেখানেই আছেন।

২০১৬ সালের ২৯ জুলাই ভোর সাড়ে ৬টার থেকে শুরু করে সারাদিন রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোড থেকে সাড়ে ৬ হাজার বন্দিকে কেরানীগঞ্জে নবনির্মিত কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার বন্দিশূন্য ছিল।

দীর্ঘ ৩৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এর আগে একবার কারাগারে যেতে হয়েছিল খালেদা জিয়াকে। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তখন জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার স্পিকারের বাসভবনকে সাবজেল ঘোষণা দিয়ে সেখানে রাখা হয়েছিল তাকে। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতের এক আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পান।

এমবি