ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) মহাপরিচালক (ডিজি) সামীম মোহাম্মদ আফজালের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইভাবে তার সম্পদের হিসাব খতিয়ে দেখবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এছাড়া ইফার আরও ৯ কর্মকর্তার সম্পদের হিসাব চেয়েছে তারা। এরইমধ্যে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত নিয়েছে দুদক।

দুদকের নজরে পড়া অন্য কর্মকর্তারা হলেন- ইফার পরিচালক (উপসচিব) জালাল আহমদ, পরিচালক (সমন্বয়) এবিএম শফিকুল ইসলাম, উপপরিচালক (পার্সো) মুহাম্মদ আজাদ আলী, সহকারী পরিচালক (পার্সো) মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পরিচালক (সমন্বয়) মুহাম্মদ মজিব উল্লাহ ফরহাদ, সহকারী পরিচালক (ডিজির দফতর) মো. জাকির হোসেন, সেকশন অফিসার-১ (প্রশাসন) মোহাম্মদ রিজাউল করিম এবং সাবেক পরিচালক মুহাম্মদ তাহের হোসেন ও মু. হারুনুর রশিদ।

মঙ্গলবার (০৫ নভেম্বর) ইফার সচিব কাজী নূরুল ইসলাম জানান, “ইফার ১০ কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাবসহ সম্পদের তথ্য চেয়েছে দুদক। এরই মধ্যে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আমীর হোসেন ইফার কার্যালয়ে এসে তথ্য-উপাত্ত চেয়েছেন। আমরা নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত দিয়ে তাদের প্রশাসনিক সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।”

দুদক সহকারী পরিচালক মো. আমীর হোসেন মঙ্গলবার বলেন, “সম্প্রতি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কিছু কর্মকর্তার নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে দুদকে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। অভিযোগটি দুদকের সংশ্লিষ্ট কমিটি আমলে নিয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সে অনুযায়ী তাদের তথ্য-উপাত্ত অনুসন্ধান করতে আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ইফার কার্যালয়ে গিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে কিছু তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। অনেকের তথ্য না পাওয়ায় সেগুলো চেয়েছি।”

ইফা পরিচালক (উপসচিব) জালাল আহমদ বলেন, ‘আমার কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি পাবে না দুদক। আমিও শুনেছি দুদক আমার তথ্য চেয়েছে। দুদক দেখুক, অনুসন্ধান করুক। এ নিয়ে আমার কোনো কথা নেই।”

দুদক তার এনআইডি নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত নিয়েছে স্বীকার করে ইফার সহকারী পরিচালক (সমন্বয়) মুহাম্মদ মজিব উল্লাহ ফরহাদ বলেন, “আমি ছিলাম বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রিপন-রোটন কমিটির উপগ্রন্থনাবিষয়ক সম্পাদক। দুদকের অভিযোগে আমাকে ‘দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার’ বানানো হয়েছে। আমি সরকারি চাকরি করি। একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।”

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রেরিত পত্রে সামীম মোহাম্মদ আফজাল পিতা- মৃত আবদুর রশিদ, মাতা- মৃত আমেনা খাতুন, জাতীয় পরিচয়পত্র নং-১৯৫৭২৬৯৫০৪২৭৮ ৪৫৩১, জন্ম তারিখ ৩১/১২/১৯৫৭, পাসপোর্ট নং বিজি ০০০৯৭৬০-এর ব্যাংক হিসাব এবং অ্যাকাউন্ট খোলার তারিখ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিস্তারিত বিবরণ চেয়ে সবকটি তফসিলি ব্যাংক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পত্র প্রেরণ করা হয়।

এমবি