ঝুট ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান সুজন হত্যাকাণ্ডে পুলিশের করা মামলায় শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা জানিয়েছে ডিবি পুলিশ। যদিও এই মামলায় ইতোমধ্যে দুই বছর পার হয়ে গেছে।

এছাড়া একই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী লুসির দায়ের করা মামলায় মিরপুর মডেল থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে। তবে ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে এজাহারভুক্ত তিন পুলিশসহ ছয় আসামি।

অপরদিকে পল্লবী এলাকায় বিয়ে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে জনি নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা অপর এক মামলারও বিচার শুরু হয়েছে বছর খানেক আগে।

এদিকে আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে শংকায় রয়েছেন নিহত দুই পরিবারের সদস্যরা। আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাদের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, মামলার বিচার নিয়ে হতাশায় রয়েছেন ওই দুই পরিবারের সদস্যরা।

নিহত সুজনের বড় ভাই শামীম সিকদার বলেন, হত্যার দুই বছর পরও পুলিশের মামলায় চার্জশিট না দেওয়ায় আমাদের পরিবার হতাশ। আসামিরা আমাদেরকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে। পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা শংকিত। আমরা হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।

অপরদিকে নিহত জনির ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকি বলেন, এসআই জাহিদের বিরুদ্ধে মামলা করার পর হতে আমাদের পরিবারকে বিভিন্ন সময় মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমরা এসআই জাহিদের বিচার চাই।

প্রসঙ্গত ২০১৪ সালের ১৪ জুলাই মাহবুবুর রহমান সুজন হত্যার ঘটনায় এসআই জাহিদসহ সাতজনকে আসামি করে মিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন পুলিশের উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম।

মামলার অপর আসামিরা হলেন, এএসআই রাজকুমার, কনস্টেবল আনোয়ার, রাশেদুল, সোর্স নাসির, পলাশ ও ফয়সাল।এরমধ্যে এসআই জাহিদ এখন কারাগারে থাকলেও বাকীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছেন ডিবি পুলিশ।

একই ঘটনায় ২০১৪ সালের ২০ জুলাই নিহত সুজনের স্ত্রী লুসি বাদী হয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আরো একটি মামলা করেন। ওই মামলায় একই বছরের ৩০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর হাকিম আশিকুর রহমান এসআই জাহিদ, এএসআই রাজকুমার, কনস্টেবল আসাদ, রাশেদুল ও মিথুনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

২০১৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন মহানগর দায়রা জজ আদালত। মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য রয়েছে।

অপরদিকে থানায় নিয়ে জনি নামের এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে ছোট ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকি এসআই জাহিদসহ আট জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন।

জানা যায়, ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুর ১১নং সেক্টরের স্থানীয় সাদেকের ছেলের গায়ে হলুদ চলাকালে জনিকে তুলে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। অবস্থা খারাপ হলে প্রথমে তাকে ন্যাশনাল হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম মারুফ হোসেন পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদুর রহমান জাহিদ, এএসআই রাশেদুল, এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টু, সোর্স সুমন ও রাশেদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা।

এ বিষয়ে ডিবি পুলিশের (পশ্চিম) উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, সুজন হত্যা মামলার তদন্ত শেষের পর্যায়ে। খুব দ্রুত আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।


এমএনজে