রাজধানীর হাজারীবাগে হাইপো ফিড কারখানায় ট্যানারীর বিষাক্ত বর্জ্য মিশিয়ে মুরগী ও মাছের খাবার তৈরীর অপরাধে দু’জনকে কারাদন্ড, জরিমানা ও কারখানা সিলগালা করার নির্দেশ দিয়েছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে হাজারীবাগের বেড়িবাধ এলাকায় ৪২/৮/ক সোনাতনগড়ে হাইপো ফিড কারখানায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ এম আনোয়ার পাশা।
দন্ডপ্রাপ্তা হলেন মোঃ সাইফুল ইসলাম(২৪) ও মো. জামাল মিয়া(৩২)। সাইফুলকে ২ বৎসরের কারাদন্ড এবং ২ লক্ষ টাকা জরিমানা, জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদন্ড এবং জামালকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদন্ড।
এসময় প্রানি সম্পদ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি ডাঃ মোঃ লুৎফর রহমান, র্যাব-২ এর উপ-পরিচালক ডঃ মোঃ দিদারুল আলম, পিএএম উপস্থিত ছিলেন।
র্যাব-২ এর উপ-পরিচালক ডঃ মোঃ দিদারুল আলম, পিএএম টাইমনিউজবিডিকে বলেন, কারখানার মালিক খলিল ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং গত ছয় মাস যাবৎ কারখানায় আসেন না। তার অবর্তমানে কারখানা পরিচালনা করে আসছে সাইফুল। মালিক তাকে ট্যানারীর বিষাক্ত বর্জ দিয়ে ফিড তৈরী করতে নিষেধ করলেও তিনি তাকে না জানিয়ে জামালকে নিয়ে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ এম আনোয়ার পাশা টাইমনিউজবিডিকে বলেন, ট্যানারী থেকে চামড়ার বর্জ্য এনে এখানে সিদ্ধ করে ছাদে শুকিয়ে শুটকী বানান। এ শুটকী ১৭ টাকা কেজি হিসেবে পাইকারী বিক্রি করেন এবং নিজেই গুড়া করে ফিড তৈরী করেন। তার কাছ থেকে শুটকী কিনে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ক্ষতিকর ফিড তৈরী করছে।
তিনি বলেন, গত ৪ বছর যাবৎ এখানে এভাবে ফিড তৈরী হচ্ছে। মুরগী বা মাছের খাবারে ৩০ পিপিএম মাত্রার বেশি ক্রোমিয়াম থাকা ঝুকিপূর্ণ হলেও উক্ত কারখানায় উৎপাদিত ফিডে প্রায় পাঁচ হাজার পিপিএম মাত্রায় ক্রোমিয়াম পাওয়া যায়। উন্নতমানের ফিড একশত কেজির মূল্য সাড়ে চার হাজার টাকা হলেও ট্যানারী বর্জ মিশ্রিত ফিড মাত্র তিন হাজার টাকা।
কতিপয় অসাধু খামারী অধিক মুনাফার আশায় এসব কারখানা হতে বিষাক্ত ফিড কিনে যা অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ। ট্যানারী বর্জ ব্যবহারের কারণ হিসেবে ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশা বলেন, দুটি কারনে এই ক্ষতিকর ট্যানারী বর্জ্য মৎস ও মুরগীর খাবারে ব্যবহৃত হয়।
প্রথমত এটি খাওয়ালে মুরগী বা মাছে দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে এবং ডিমের আকার বড় হয়। দ্বিতীয়ত এটি দামে সস্তা। দ্রুত বৃদ্ধির জন্য প্রচুর প্রোটিন বা আমিষের প্রয়োজন। পশু চামড়া প্রোটিন বা আমিষের বড় উৎস। চামড়ায় প্রচুর প্রোটিন থাকে। শুটকী মাছের গুড়া এবং আমদানীকৃত মিটবন্ড ব্যবহার করে সাধারনত ফিড তৈরীর কথা থাকলেও এগুলোর দাম বেশি হওয়ায় বিকল্প হিসেবে চামড়ার বর্জ ব্যবহার করা হয়। ফিডের মাধ্যমে মানবদেহে ক্রোমিয়াম প্রবেশ করছে উল্লেখ করে ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশা বলেন, মারাত্মক ক্ষতিকর ক্রোমিয়াম উক্ত ফিডের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করছে।
এ ফিড মাছ বা মুরগী খেলে মলমূত্রের মাধ্যমে খানিকটা বের হযে গেলেও একটা বড় অংশ মাছ বা মুরগীর শরীরে জমা হতে থাকে। এমনকি ডিমেও জমা হয়। উক্ত মাছ, মুরগী বা ডিম খেলে মানুষের শরীরে ক্রোমিয়াম প্রবেশ করে এবং মলমূত্রের মাধ্যমে সবটা বের হতে না পেরে শরীরে জমা হতে থাকে এবং নানা রোগ সৃষ্টি করে।
মানবদেহে অতিরিক্ত ক্রোমিয়াম প্রবেশ করায় ক্যান্সার (বিশষত ফুসফুস ক্যান্সার), টিউমার, পাকস্থলি/ক্ষুদ্রান্ত্র আলসার, পুরুষত্বহীনতা, অকাল প্রসব, বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম, এজমা, শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা জানিয়েছেন।
র্যাব-২ এর উপ-পরিচালক ডঃ মোঃ দিদারুল আলম বলেন, হাজারীবাগসহ কোনো এলাকার কারখানায় যাতে ট্যানারীর বিষাক্ত বর্জ্য দিয়ে ফিড তৈরী না হয় সেজন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জেইউ/এসএইচ





