গ্রাম থেকে হত দরিদ্রদেরকে টাকাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকায় এনে তাদের শরীর থেকে কিডনী কেটে নিত একটি চক্র।
এই চক্রটি আগে অজ্ঞান পার্টির সাথে জড়িত ছিল। এখন তারা আন্তর্জাতিক কিডনী পাচার চক্রের সদস্য। এমনই তথ্য দিলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও গাবতলী বাসটার্মিনাল এলাকা থেকে শুক্রবার আন্তর্জাতিক কিডনী পাচার চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতারের ব্যাপারে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে শনিবার দুপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ সব তথ্য জানান।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আব্দুল জলিল, শেখ জাকির ইবনে আজিজ ওরফে শাকির, আশিকুর রহমান ওরফে জেবিন, ফজলে রাব্বি ও জিহান রহমান।
মনিরুল ইসলাম বলেন, দরিদ্র ব্যক্তিদের টাকাসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকায় নিয়ে এসে চেতনা নাশক ঔষধ দিয়ে শরীর থেকে কিডনী কেটে নিত একটি চক্র।
তাদের কাছ থেকে দুটি চেতনানাশক ইনজেকশন ও সিরিঞ্জ, একটি ধারালো ছোরা এবং একটি তোয়ালে উদ্ধার করা হয়। এ সময় আবু হাসান ও মাহবুবুর রহমান শান্ত নামে দুই ভিকটিমকেও উদ্ধার করে ডিবি।
গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তিনি বলেন, গ্রেফতার জলিল জয়পুরহাট থেকে কিডনী বিক্রির উদ্দেশ্যে ভিকটিম আবু হাসানকে ঢাকায় নিয়ে আসে।
একটি কিডনীর বিনিময়ে সিএনজি ও টাকার কথা বলে ঢাকায় নিয়ে আসে। জলিলের দেওয়া তথ্যানুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চক্রের বাকি ৪ সদস্য গ্রেফতারসহ ভিকটিম শান্তকে উদ্ধার করা হয়।
ডিবির যুগ্ম-কমিশনার বলেন, ভিকটিম শান্তকে যাওয়া-আসার খরচ ও ২০ হাজার টাকার প্রলোভন দেখিয়ে পূর্ব পরিচিত গ্রেফতার আশিকুর তার চাচীকে রক্ত দেওয়ার কথা বলে ঢাকায় নিয়ে আসে। রক্ত দেওয়ার সময় তারা চেতনানাশক ঔষধ দিয়ে শান্তর কিডনী কেটে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।
কিডনী অপসারণের পর শান্তকে হত্যা করে বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেওয়ার অথবা অন্য নামে লঞ্চে রুম বুকিং করে লাশ সুটকেসে ঢুকিয়ে সেখানে লাশ ফেলে রাখার পরিকল্পনাও ছিল তাদের।
তিনি আরও বলেন, গ্রেফতার জলিল আগেও ভারতে গিয়েছিল কিডনী বিক্রি করতে। সে গত ১০ বছর ধরে এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত।
এ অপরাধের সঙ্গে বাংলাদেশের কোন হাসপাতাল বা ক্লিনিক জড়িত রয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এমআর/এসএইচ





