অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দুবাইয়ে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক আলী ফালুসহ ৯ ব্যবসায়ীকে বুধবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের তলবে সাড়া দিয়ে এদিন সকাল ১১টা ৫ মিনিটে হাজির হন চার ব্যবসায়ী। তবে আসেননি ফালুসহ ৫ জন।

দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে যে চারজন হাজির হয়েছেন তারা হলেন- আরএকে পেইন্টস ও আরএকে কনজ্যুমার প্রোডাক্টসের পরিচালক কামারুজ্জামান, আরএকে পাওয়ার লিমিটেডের পরিচালক মাকসুদুল করিম, আরএকে কনজ্যুমার প্রোডাক্টসের দুই পরিচালক মোহাম্মদ আমির হোসেন ও এম এ মালেক।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, '৯ জনের আসার কথা ছিল। তার মধ্যে চারজন জিজ্ঞাসাবাদে হাজির হয়েছে। তাদেরকে দুদকের পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।'

তবে অন্যদের না আসার ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে পারেননি।

দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে বিএনপি নেতা ফালুসহ যারা আসেননি তারা হলেন-
আরএকে পেইন্টসের পরিচালক শায়লিন জামান আকবর, রোজা প্রোপার্টিজের পরিচালক আশফাক উদ্দিন আহমেদ, আরএকে সিরামিকসের স্বতন্ত্র পরিচালক ফাহিমুল হক এবং স্টার সিরামিকসের পরিচালক প্রতিমা সরকার।

এর আগে গত সোমবার দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের সই করা পৃথক চিঠির মাধ্যমে তাদেরকে বুধবার হাজির হওয়ার নির্দেশনা দেন।

এদিকে মোসাদ্দেক আলী ফালুকে গত ১৪ আগস্ট প্রথম দফায় তলব করলে তিনি তার প্রতিষ্ঠানের কোম্পানি সচিবের মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে সময় দিয়েছিল দুদক। এছাড়া অন্যদের বিভিন্ন সময়ে তলব করেছিল সংস্থাটি।

এর আগে গত ৩ আগস্ট মোসাদ্দেক আলী ফালুসহ ৯ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ইমিগ্রেশনে চিঠি পাঠায় দুদক।

চিঠিতে বলা হয়, ওই ৯ জনের বিরুদ্ধে ৮ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের প্রায় ৬৫ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮২ টাকা হিসাবে) দুবাইয়ে পাচার করে অফশোর কোম্পানি খুলে বিনিয়োগ, দুবাইয়ে আরো শত কোটি টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানেও এর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, এসব ব্যক্তি দেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাই তারা যাতে অন্য দেশে চলে যেতে না পারেন, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয় দুদকের পক্ষ থেকে।

যাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় তারা হলেন- বিএনপির নেতা ও সাবেক সাংসদ মোসাদ্দেক আলী ফালু, আরএকে পেইন্টস ও আশালয় হাউজিংয়ের পরিচালক এস এ কে একরামুজ্জামান, তার ছেলে এবং আরএকে পেইন্টস ও আরএকে কনজ্যুমার প্রোডাক্টসের পরিচালক কামার উজ জামান, ঝুলপার বাংলাদেশ লিমিটেড ও রাকিন ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির পরিচালক সৈয়দ এ কে আনোয়ারুজ্জামান, আরএকে পাওয়ার লিমিটেডের পরিচালক মাকসুদুল করিম, আরএকে কনজ্যুমার প্রোডাক্টসের দুই পরিচালক মোহাম্মদ আমির হোসেন ও এম এ মালেক, রোজা প্রোপার্টিজের পরিচালক আশফাক উদ্দিন আহমেদ এবং আরএকে পেইন্টস ও আরএকে ক্যাপিটাল লিমিটেডের পরিচালক শায়লিন জামান আকবর।

দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি দল এ অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করছে। দলের আরেক সদস্য হলেন সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান।