পাচারকারীচক্র ইরাকসহ মধ্যেপ্রাচ্যে বাংলাদেশীদের পাচার করে তাদেরকে ইরাকীদের কাছে ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি করে দেয়ার তথ্য পেয়েছে র‌্যাব। র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর কাওরানবাজার ও ফার্মগেট এলাকা থেকে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে আদম ব্যবসায়ী মো. মিজানুর রহমান ও তার ৮ সহযোগী আটকসহ ১৮ জন ভিকটিম উদ্ধার করা হয়। তাদের নিয়ে র‌্যাব-২ কার্যালয়ে বুধবার বিকালেএক সংবাদ সম্মেলনে পরিচালক লেফট্যানেন্ট কর্নেল কে এম আজাদ এ কথা জানান।

আটকরা হলেন- মো. মিজানুর রহমান (৪৬), মো. শওকত আলী (৩৪), মোসা. সালমা আক্তার (৪২), মিজানুর রহমান (৫২), আমিরুল ইসলাম (৩৮), মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৬), মো. রেজাউল খান (৩৫), আ. ওব (৩১) ও কোরবান আলী (৫৪)।

কে এম আজাদ বলেন, এ চক্রটি ইরাক, লিবিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর কথা বলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিত। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে কাওরানবাজার রেলবস্তি থেকে মো. মিজানুর রহমান, শওকত, সালমা, মিজানুর রহমানকে আটক করা হয়। এ সময় বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের কাছে আসা আরিফ মিয়া, ফরিদ মিয়া, তোফাজ্জল হোসেন, আনিস হাওলাদার, মো. আব্দুল আজিজ, প্রশান্ত কুমার দাস, মো. মমিন ও ফেরদৌসকে উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, তাদের দেয়া তথ্য মতে ফার্মগেট ওভারব্রিজ, তেঁজকুনীপাড়া এলাকা থেকে চক্রের অপর দুই সদস্য আমিরুল ও আব্দুল্লাহকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে আটক করা হয়। পরে চক্রের অন্য সদস্য রেজাউল, রব ও কোরবানকে আটক করে র‌্যাব। পুরো অভিযানে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগী মোট ১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চক্রটির কাছ থেকে ২০,০০৩ টাকা, ১১টি মোবাইল, ৬টি এটিএম কার্ড, ৪টি জাতীয় পরিচয়পত্র, ৫টি ম্যানিব্যাগ, একটি চাবির ছড়া, একটি চশমা, দুই ডলার, ৩০ ভারতীয় রুপী, তিনটি ঘড়ি, একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স, একটি আংটি, ৯টি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয় বলেও জানান তিনি।

আটক মো. মিজানুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা তিন বছর ধরে অবৈধভাবে বিদেশে মানবপাচার করছে। বেশিরভাগকেই ইরাকে প্রেরণ করে তারা এবং প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪ থেকে ৬ লাখ টাকা নিত। বিদেশে তাদের এজেন্ট ছাড়াও দেশের মধ্যে ক্লায়েন্ট বা বিদেশ যেতে ইচ্ছুকদের সন্ধানের জন্য তিনটি গ্রুপ কাজ করে। প্রথম গ্রুপটি স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন লোকজনকে বিদেশে চাকরি দেওয়ার নামে প্রলোভনের কাজ করে। এ গ্রুপে কোরবান, রেজাউল ও রব। দ্বিতীয় গ্রুপটি জাল ভিসা তৈরিসহ অন্যান্য কাজ করে। এ কাজটি করে আমিরুল ও মামুন। তৃতীয় গ্রুপটির মূল কাজ টাকা পয়সা লেনদেনের বিষয়টি দেখাশোনা এবং ঢাকায় এসে লোকজনকে একত্র করে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত পৌছে দেয়া। এই গ্রুপের দায়িত্ব মিজান নিজে, সালমা, শওকত ও অপর মিজানুর রহমানের।

তিনি আরও বলেন, গত ৮ এপ্রিল কাওরানবাজার ও ফার্মগেট এলাকা থেকে আটক পাসপোর্ট ও ভিসা জালিয়াতি চক্রের মো. আ. জব্বার খান (৪৭) ও এসএমএ মান্নান ওরফে জাহাঙ্গীরদের সাথে তাদের যোগসাজেশ রয়েছে। আটক সকলের ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

জেইউ/কেএইচ