একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পাকিস্তানফেরত সেনা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন শহীদুল্লাহকে (৭২) জামিন দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আজ (মঙ্গলবার) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ২ লাখ টাকার বন্ডে স্বাক্ষর এবং ১জন আইনজীবী ও নিকটাত্মীয়ের জিম্মায় শহীদুল্লাহকে জামিন দেওয়া হলো। এ সময়ে তাঁকে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে এবং মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
এ ছাড়া, শহীদুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ১২ ডিসেম্বর দিন ঠিক করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের মুখোমুখি হওয়া সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার আমিরাবাদ এলাকার জিন্নত আলীর ছেলে শহীদুল্লাহ।
তাঁর বিরুদ্ধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দাউদকান্দিতে হত্যা, আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩ জনকে হত্যা, ১৩ জনকে আটক ও নির্যাতন এবং ৫ টি বাড়িতে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ।
চলতি বছরের ২১ মার্চ শহীদুল্লাহর বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তৈরি করে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেন প্রসিকিউশন।
এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর থেকে গত ২০ মার্চ পর্যন্ত তদন্ত করেন জেড এম আলতাফুর রহমান।
প্রসিকিউশনের আবেদনে গত বছরের ২ আগস্ট ক্যাপ্টেন শহীদুল্লাহর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।
ওই দিন রাত ১টায় আমিরাবাদ গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে দাউদকান্দি থানা পুলিশ। পরের দিন ৩ আগস্ট হাজির করা হলে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন ট্রাইব্যুনাল।
এমবি





