সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান মিয়ার এপিএস সৌমেন্দ লাল চন্দ শৈলেনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের মামলায় চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার দুদকের নিয়মিত সভায় সৌমেন্দ লাল চন্দ শৈলেনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেয়া হয়। ফলে যে কোনো দিন আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করতে পারেন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা উপ পরিচালক এ কে এম মেসবাহ উদ্দিন ।
দুদকের উপ পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ।
জানা যায়, গত বছর ২ জুন দুদকের উপ-পরিচালক কে এম মিছবাহ উদ্দিন বাদী হয়ে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারায় রমনা মডেল থানায় একটি মামলা (মামলা নং-৪)দায়ের করেন।
এ মামলার পর গত বছর ৯ জুন বিকেলে দুদকের উপ পরিচালক এ কে এম মেসবাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে দুদকের একটি টিম পুলিশের সহযোগিতায় শৈলেনকে রাজধানীর বেইলি রোডের তার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করে। ১০ জুন শৈলেনকে ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির করে ৯ দিনের রিমান্ডে আনে দুদক। এ মামলাটি এর আগে দুদকের সাবেক উপ পরিচালক আহসান আলী তদন্ত করেন।
আসামি শৈলেনের বিরুদ্ধে বিপুল অংকের অর্থ বিদেশ পাচার, ৪০৩টি হজ্ব এজেন্সির লাইসেন্স প্রদানের মাধ্যমে ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ তার নামে বেনামে বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদের অভিযোগ রয়েছে।
তার নামে- বেনামে বহু সম্পদের মধ্যে পটায়াখালীতে তার ৩ তলা বাড়ি এবং ভারতে বসবাসকারী শৈলেনের দুই ভাই,এক বোন ও ভগ্নিপতির নামে বাড়ি ও ব্যবসা রয়েছে। ভারতে শৈলেনের ভাই সচিন চন্দ ও রবিন চন্দ বোন নমিতা চন্দ এবং ভগ্নিপতি কিষেন মিত্র নামে অঢেল সম্পদ রয়েছেন।
জানা যায়, শৈলেন ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর এপিএস নিয়োগ লাভের আগে তারা ভারতে বিভিন্ন দোকানো কর্মচারি হিসেবে কাজ করতেন। কেউ করতেন ক্ষুদ্র ব্যবসা। শৈলেন এপিএস নিয়োগ হওয়ার পরই পাল্টে যায় তাদের জীবন যাত্রা। এখন শৈলেনের ভাই রবিন চন্দ কোলকাতার ৪ নং সন্তোষ রাইবাজার রোডে একটি বাড়ির মালিক।
আরেক ভাই সচীন চন্দ ভারতের চব্বিশ পরগনার ১৫৪, হাঁসপুকুর, গ্রীণ পাকজোকায় বাড়ির মালিক। বোন নমিতার নামেও রয়েছে কোলকাতার ২৩/১, রামগোপাল পাল রোড, মিত্রপাড়ায় একটি বাড়ি। এছাড়া তাদের প্রত্যেকের আলাদা ব্যবসা রয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর এপিএস থাকাকালে শৈলেন অবৈধভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১ কোটি ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৩৯ টাকার সম্পদ অর্জন করেন। তিনি এই অর্থ ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করেছেন।
এজাহারে আরো হয়, শৈলেন গত ৪ বছর ১১ মাসে তার মোট আয় ১১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৫৩ টাকা হবার কথা। অথচ গত ৪ বছর ১১ মাসে তার ১ কোটি ১৮ লাখ ৪৬ হাজার ৪২ টাকার সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক।
তার আয়কর বিবরণী অনুসারে ২০১৩-১৪ করবর্ষে ৩০ লাখ ৯০ হাজার ৬২১ টাকার নীট আয়, সোনালী ব্যাংকের বায়তুল মোকাররম শাখায় ৬৪ লাখ ১০ হাজার ২৯ টাকা, মার্কেন্টাইল ব্যাংকে জমাকৃত ১৩ লাখ ৪৬ হাজার ১৮৬ টাকা, প্রিমিয়ার ব্যাংকে জমাকৃত ৪ লাখ ১২ হাজার ৪৯৩ টাকা, নিজস্ব জিপ গাড়ি ও মেয়েকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিবাবদ ৫৩ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ তার বৈধভাবে আয় করা অর্থ বাদ দিলে তার অবৈধ অর্থ ও সম্পদের পরিমান ১ কোটি ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৩৯ টাকা।
একে





