খুলনা মহানগরীর দরগা এলাকায় এক্সিম ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে গণধর্ষণের পর বাবা ইলিয়াস আলীসহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ আসামিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মো. মহিদুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন-সাইফুল ইসলাম পিটিল (৩০), তার ভাই শরিফুল ইসলাম(২৭), মো. লিটন (২৮), আজিজুর রহমান পলাশ (২৫) ও আবু সাঈদ (২৬)।।
রায় ঘোষণার পর চার আসামিকে আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনার পর থেকেই আসামি শরিফুল পলাতক রয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, কর্মস্থলে যাওয়া-আসার পথে এক্সিম ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে উত্ত্যক্ত করত এলাকার কয়েকজন বখাটে সন্ত্রাসী। তাদের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদের কারণে ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে গণধর্ষণ ও তার বাবা ইলিয়াস চৌধুরীকে হত্যা করা হয়।
নগরীর লবণচরা থানাধীন ব্যুরো মৌলভীর দরগা এলাকার ৩নং গলির ঢাকাইয়া হাউস এপি ভিলা নামের বাড়িতে ২০১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নৃশংস এ খুনের ঘটনা ঘটে। বাবা ও মেয়েকে হত্যার পর বাড়ির ভেতরে সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে মরদেজ ফেলে দেয় খুনিরা।
তারা ওই বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ বেশ কিছু মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নিহত ইলিয়াছ চৌধুরীর ছেলে রেজাউল আলম চৌধুরী বিপ্লব বাদী হয়ে ২০ সেপ্টেম্বর লবণচরা থানায় হত্যা এবং ২২ সেপ্টেম্বর ধর্ষণ মামলা করেন।
২১ সেপ্টেম্বর আসামি মো. লিটন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া আরেক আসামি সাঈদও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লবণচরা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী বাবুল ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ ধর্ষণ মামলায় এবং ৯ মে হত্যা মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। হত্যা মামলায় ৩৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২২ জন ও ধর্ষণ মামলায় ৩৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
রায় ঘোষণার পর মামলার বাদী রেজাউল আলম চৌধুরী বিপ্লব জানান, এই রায়ে তিনি সন্তুষ্ট। দ্রুত এই রায় কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।
এমআর





