‘ধানের শীষে’ ভোট দেয়ায় নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ৪ সন্তানের মা’কে দল বেঁধে গণর্ধষণের ঘটনার মূলহোতা রুহুল আমিনকে ১ বছরের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।  

এই সংক্রান্ত এক আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গত সোমবার (১৮ মার্চ) এই আদেশ দেন।  

রুহুলকে জামিন দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ রায়। আগামী ২৫ মার্চ চেম্বার আদালেত তার শুনানি হতে পারে।

কোন যুক্তিতে আসামিকে জামিন দেওয়া হয়েছে- জানতে চাইলে বিশ্বজিৎ বলেন, আবেদনকারীর আইনজীবী আদালতে বলেছেন যে, মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (এফআইআর) রুহুল আমিনের নাম নাই। তাছাড়া মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। এসব বিষয় তুলে ধরে জামিন চাওয়া হয়েছে।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে ‘ধানের শীষে’ ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে নির্যাতিতা ওই নারীর সঙ্গে কয়েকজনের কথাকাটাকাটি হয়। এর জেরে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিনের নির্দেশে ১০-১২ জন তার বাড়িতে গিয়ে স্বামী-সন্তাদের বেঁধে তাকে গণর্ধষণ ও মারধর করে।

ওই নারীর বলেন, ভোটের সময় নৌকার সমর্থকদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়েছিল। এরপর রাতে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিনের ‘সাঙ্গপাঙ্গরা’বাড়িতে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে।

চরজব্বর থানায় ওই নারীর স্বামীর করা মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা তার বসতঘরে ভাংচুর করে, ঘরে ঢুকে বাদীকে পিটিয়ে আহত করে এবং সন্তানসহ তাকে বেঁধে রেখে দলবেঁধে ধর্ষণ করে তার স্ত্রীকে।

ধর্ষণের শিকার ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে চরজুবলী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এমবি