বহুল আলোচিত সিলেটের শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলায় প্রধান আসামি কামরুল ইসলামসহ ৪ জনকে অপরদিকে খুলনায় শিশু রাকিব হত্যায় ২ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালত রাজন হত্যা মামলায় এ রায় দেন। এবং দুপুর ১টায় খুলনার দায়রা জজ আদালত রাকিব হত্যায় এ ফাঁসির আদেশ দেন।
সিলেটে রাজন হত্যা মামলায় প্রধান আসামি কামরুল ইসলাম, চৌকিদার ময়না, পাভেল ও তাজুদ্দিনকে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ১ জনকে যাবজ্জীবন, কামরুলের ৩ ভাইকে সাত বছরের এবং দুজনকে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দাণ্ডিত করা হয়েছে। এছাড়া অপর ৩ জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত পাভেল এখনো পলাতক আছে।
অপরদিকে খুলনায় শিশু রাকিব হত্যায় গ্যারেজ মালিক শরীফ (৩৫), সহযোগী মিন্টু মিয়াকে (৪০) ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মামলার অপর আসামি শরীফের মা বিউটি বেগমকে (৫৫) খালাস দেয়া হয়েছে।
৪ মাস আগে ৮ জুলাই সিলেট নগরীর কুমারগাঁওয়ে শিশু সামিউল আলম রাজনকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। নির্যাতনের ভিডিওচিত্র মোবাইলে ধারণ করে ছড়িয়ে দিলে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। প্রতিবাদে বিস্ফোরিত হয়ে ওঠে গোটা দেশ। ঘটনার তীব্রতায় বাধ্য হয়ে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। জনতার স্বতঃস্ফূর্ত সহায়তায় একে একে গ্রেফতার হয় রাজনের মূল ঘাতকরা।
গত ১৫ অক্টোবর রাজন হত্যা মামলার প্রধান আসামি সৌদিতে পলাতক কামরুল ইসলামকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, রাজন হত্যা মামলা রায়ের মোট ৭৬ পৃষ্ঠা রয়েছে। তন্মধ্যে ৫৪নং পৃষ্ঠা থেকে পড়া শুরু করে পরবর্তী ২২ পৃষ্ঠা পড়ে শুনানো হয়েছে। রায়ের মোট ২ হাজার ৮১০ লাইন ছিল।
এর আগে বেলা ১১টা ১৮ মিনিটে আদালতে হাজির করা হয় মামলার আসামি কামরুলসহ অন্যদের। ১১টা ২৪ মিনিটে তাদেরকে কাঠগড়ায় হাজির করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে সামিউল আলম রাজনকে চোর সাজিয়ে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়। এরপর ১৬ আগস্ট রাজন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সুরঞ্জিত তালুকদার ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত ২৪ আগস্ট, সোমবার চার্জশিট আমলে নেন। পরে ২২ সেপ্টেম্বর ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে রাজন হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
অপরদিকে গত ৩ আগস্ট বিকেলে খুলনা নগরীর টুটপাড়া এলাকায় শরীফ মটরসে কম্প্রেসার মেশিন দিয়ে শিশু রাকিবের পায়ূপথে হাওয়া ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শরীফ ও মিন্টু মিয়াকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে শরীফের মা বিউটি বেগমকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ঘটনার পরদিন ৪ আগস্ট নিহত শিশুর বাবা মো. নূর আলম বাদী হয়ে তিন জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত ২৫ আগস্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী মোস্তাক আহমেদ এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
এআই/এমএইচ





