ব্লগার রাজীব হায়দার শোভন হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ বিচারক সাঈদ আহম্মেদ আলোচিত এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান শায়খুল হাদীস মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফয়সাল বিন নাইম ওরফে দ্বীপ (২২), মাকসুদুল হাসান অনিক (২৬), এহসানুর রেজা রুম্মান (২৩), মো. নাঈম সিকদার ওরফে ইরাদ (১৯), নাফির ইমতিয়াজ (২২), সাদমান ইয়াছির মাহমুদ (২০) ও রেদোয়ানুল আজাদ রানা (৩০), আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান শায়খুল হাদীস মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফয়সাল বিন নাইম ওরফে দ্বীপ (২২), মাকসুদুল হাসান অনিক (২৬), এহসানুর রেজা রুম্মান (২৩), মো. নাঈম সিকদার ওরফে ইরাদ (১৯), নাফির ইমতিয়াজ (২২), সাদমান ইয়াছির মাহমুদ (২০) ও রেদোয়ানুল আজাদ রানা (৩০) ।
এর মধ্যে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে ফয়সাল বিন নাইম ওরফে দ্বীপ ও রেদোয়ানুল আজাদ রানাকে।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদেরকে আরো এক বছর কারাভোগ করতে হবে। আসামিদের মধ্যে রানা পলাতক রয়েছে। অপর আসামিরা কারাগারে আটক রয়েছে। রায় ঘোষণাকালে কারাগারে আটক আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়।
মামলাটিতে চার্জশিটভুক্ত ৫৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। সাক্ষীদের মধ্যে রাজীবের বাবা ডা. নাজিম উদ্দিন এবং তার ছোট ভাই স্থপতি নেওয়াজ মুর্তজা হায়দারও রয়েছেন।
এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।রায় সম্পর্কে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান মামলার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সাল থেকে চলতি বছর ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ছয়জন ব্লগার হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ব্লগার রাজীব হত্যার রায় প্রথম ঘোষণা করা হলো। অপর মামলাগুলো এখনো তদন্তাধীন।
এর আগে এ মামলায় গত ১৮ মার্চ আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান শায়খুল হাদীস মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানীসহ আট আসামিকে অভিযুক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে আদালত ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রুহুল আমিন। ওই আদালত থেকে গত ১১ মে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আদেশে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ওই ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ মে ধারা সংশোধন করে পুনরায় চার্জ গঠন করেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহমেদ। এর আগে গত বছরের ১৪ অক্টোবর চার্জশিট আমলে নেয় মহানগর দায়রা জজ রুহুল আমিন।
আটক আসামিরা আদালতে রাজীব হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে শুধু মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানী স্বীকারোক্তিতে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার না করলেও অপর স্বীকারোক্তিকারী আসামিরা রাজীবকে হত্যার জন্য রাহমানী নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন।
মামলাটিতে গত বছরের ২৮ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক নিবারণ চন্দ্র বর্মন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাসায় ফেরার পথে পল্লবীর কালশীর পলাশনগরে খুন হন শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা রাজীব হায়দার শোভন। ঘটনার দিন সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে রাজীব যখন পল্লবীর বাসার দিকে যাচ্ছিলেন, তখন বাসার গেইটের কাছাকাছি পৌঁছার পর রানা তাকে রিক্সা থেকে ধাক্কা দেয় এবং ফয়সাল বিন নাঈম ওরফে দীপ চাপাতি দিয়ে গলা থেকে মাথা আলাদা করার জন্য কোপ দেয়। কোপে রাজীব মারাত্মক আহত হয়ে চিৎকার করে দেয়ালের ওপর পড়ে যান। তারপর ফয়সাল রাজীবকে চাপাতি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপায়।
এমএম





