গেজেটভুক্ত ৪৭৯ নৌমুক্তিযোদ্ধাদের মধ্য থেকে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার ২২ মুক্তিযোদ্ধাকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না জানতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সাথে এ সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন আদালত।

সোমবার বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এবং বিচারপতি মো: খসরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

রিটে বিবাদী করা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ এবং গাইবান্ধা জেলা প্রশাসককে পক্ষ করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে ছিলেন, ব্যারিস্টার তৌফিক ইনাম। তাকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার গালিব আমিদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নী জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ২২ রিট আবেদনকারীসহ ৪৭৯ জন মুক্তিযোদ্ধাগণ ভারত হতে নৌকমান্ডো ট্রেনিং সম্পন্ন করে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

স্বাধীনতা-উত্তর কালে ৭ সদস্য বিশিষ্টি জাতীয় কমিটি বিগত ২০০১ সালে নৌকমান্ডো মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা চূড়ান্ত করে। পরবর্তীতে ২০০৪ সালের ১৫ জুন এবং ২০০৫ সালের ১৭ এপ্রিল ৪৭৯ জন নৌকমান্ডোদের নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হয় এবং ওই সময় হতে তারা নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধা সম্মানি ভাতা পেয়ে আসছেন। কিন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তির রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল গত ৭ এপ্রিল রিট আবেদনকারীসহ ২৪ জন মুক্তিযোদ্ধাদের নাম কর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। উক্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হান্নান সরকারসহ ২২ জন মুক্তিযোদ্ধা গত ৮মে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন।

এমআইএস